বুড়িগঙ্গা
আবার বুড়িগঙ্গা… চাঙ্খার পুলের উঁচুতে চাঁদ- দেখবি।
পকেটভর্তি অসুখ আর নৈঃশব্দ্য; বদল হতে হতে কাঁটাবন, জিরোজিরো বেইলিরোড।
আরও কত কি…
আয় বিয়ে করি― হানিমুনে তুমুল প্যারাডক্স হোক…
পায়ের আঙুলে লিখি- তুমি + আমি। সেই হাতের লেখার মতো পাপ ভেসে যায়।
সমুদ্র, পুরুষ নাকি জল আর তুই- পাখি নাকি নির্ঝর নাকি সঙ্গসিরিজ
ফিরব বলেই তো যাই…
যদি এপ্রিল ডাকে, আবার আসবো- আমাকে কেউ আটকাতে পারেনা।
বাজি
বন্ধু নাকি প্রেমিক, না কামড়ে ধরা সারি সারি স্মৃতি।
মৌনি তুই, তুইতুই লাফিয়ে ওঠা ভোর।
আকাশ নয়, আমিই বিছিয়ে রেখেছি নীল।
এই নে এপ্রিল, ৭ তারিখের মতো রোদ, বিপজ্জনক ছায়া, বিদ্রূপ আর যতিচিহ্নের ঘাম।
কে যেন বসন্ত পোষে… আশরীর তার অনন্য নির্জন।
অন্য মোহের দিকে আরেকটি সরলরেখা।
সেখানে যা, বাজি ধরে যা…
আর
দেখতে থাক― তোর নামে পাঁচ-পাঁচটি হরিণ প্রতিদিন ঘাই খোঁজে।
দণ্ড
বানান ভুলের মতো দেহ তবু সন্দেহ কোথায় লুকানো চাঁদ, অপবাদ আর নিঃশব্দ তারা।
ও আকাশ… শব্দ কর, ব্রহ্মাণ্ডে ছুড়ে দে পাপ।
যে পাখি যায়, ঋতুর গন্ধ নিয়ে যায়, দূরে তার ছায়ার ঝিলিক।
আরও দূরে অন্ধকার, অপার বিরহবাজি।
পঞ্চমে টহলরত তুই, একবার সঙ্গ অন্যবার নিসঙ্গ কর।
প্রথম শিকার আমি, তুই তার নেকড়েছায়া।
হাওয়ার ভেতর থেকে হাওয়া, আমারে স্বস্তি দে…
নিখিলে দণ্ড দে…
ধ্বনি
যাকিছু কাঁপে, কাছে ছায়া কাঁপে, খুব দূরে সুমন্দ্র বহিয়া যায়।
কে তোর প্রথম পাখি, সপ্তমে পরিযায়ী হিম।
মাঝখানে রোদ, দুই পাশে শোভনধারা।
তবুও প্রণয়
তবু বৃহন্নলা
কী টান রাখিস, এবার খুলে দে পাথরের নদ।
কত জল… কত পুরুষ, বাউরি বাতাস, কতকত শূন্যসম্ভবা।
কিছু পিছুটান
দ্বিধা…
শরীরে ধরিয়া রাখ আনত সূর্যের কণা।
আমারে ছুইয়া দে… তোর স্পর্শে আমিও আশরীর ধ্বনি।
পাখি― এক
স্নান কর তারপর দৌড়ে পালিয়ে যা। ভয় কিসের আত্মহত্যা তোর বন্ধুর মতো, ছুরি ও পিস্তলের মতো একা ও গোপনের মতো কিচিরমিচির।
তুই হিংস্রপ্রবণ, অদ্বৈত ও অত্যাচারী। অক্ষরে ক্রিয়া ঢুকিয়ে দিয়ে নিজের সাথে হাসাহাসি করিস।
আমি বস্তু হয়ে দেখি তোর সবগুলো নাম কেমন হৈহৈ… রৈরৈ।
পাখিও ভয়ানক হতে পারে কিন্তু সে গান গায়। সে গান গায় কিন্তু শিকার করে। সে শিকার করে কিন্তু প্রসব করে, বাচ্চা বড় করে তারপর কেউ কাউকে চেনেনা।
ওই পাখিটা তুই, ভয়ানকভাবে তুই।
পাখি― দুই
ইতিহাস থেকে ছিটকে পড়ে পাখি, পাখি থেকে উড়াল ও ব্যাধশাস্ত্র। আমি চারঘণ্টা অন্তর অন্তর পাখি এঁকে একজন ব্যাধকে দাঁড় করিয়ে রাখি। ড্রয়িংখাতা যেন জঙ্গল, যেন তোর মতো একেকটি প্যারাবন।
ডানা ভেঙে যারা আসে তাদের তুই আশ্রয় দিস। আশ্রয় পেতে পেতে যারা শিকারীর কথা ভুলে যায় তাদেরও আশ্রয় দিস। আবার শিকারে যারা ক্লান্ত হয়ে আসে তারাও তোর কাছে আশ্রয় পায়।
তুইও জানো― পাখি আজ বিপন্ন, রসনার কাছে তাদের ত্যাগও বিপন্ন। তবু পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে, পাখি দেখে কেউ কেউ প্রেমিক হয়ে উঠি।
আর…
পাখির আনন্দ দেখে বুঝতে পারি কোথায় যেন খুন হচ্ছে পাখি।
কামরাঙা
যা কিছু জল তার থেকে স্পর্শ বেশি, এবার তীব্র খুলে দে…
ছুঁয়ে দেখ শরীরে অসংখ্য ভোরবেলা।
একেকটা নামের সাথে অন্য নামের নির্জন।
বেঁধে রাখি, তবু ঘুম সাতবার কোলাহল ভাঙে।
নিজের বদল দেখে আয়, যে কেউ ফিরাতে পারে ডানা।
কোথায় উড়াল, তেপান্তরে ছায়ার ঝিলিক।
ডিগবাজির পরে শূন্য শূন্যই থাকে, শুধু অপার শূন্যতা…
কেন কামরাঙা তুই।
