কমলাপুরের ভোর
ভোরের কমলাপুরে বাতাস বইতে দেরি হয়ে যায়।
পাখিরা উঠবে আগে, তারপর মাঠে মাঠে নামবে মানুষ।
তিল আর তিসি, আর তার সবুজাভ ক্ষেত
এখন পুরনো গল্প হয়ে বাটে বাটে ঘোরে
শীতের আসার আগে ঘরে ঘরে বীজের প্রবেশ
মায়েরা তখন বীজ তুলে রাখে পাটের শিকায়।
কামারখালের জলে
গেঁথে আছে বাঁশের বাঁকানো সাঁকো
একখানা ভাঙা নৌকা বসে থাকে নিচে
গ্রামের শিশুরা বলে—
ওটা নাকি প্রতি রাতে নিজে নিজে চলে।
আবার সে ফিরে আসে ভোররে আগইে
ইতিহাস যেরকম ঘুরেফিরে আসে!
সঙ্গে করে নিয়ে আসে নতুন বয়ান।
চৌহদ্দির কুয়াশা
চৌহদ্দিতে শীত নেমে এলে
পায়ে-চলা পথ ঝাপসা হারিয়ে যায়।
মস্তফাপুরের হাট থেকে
ভেসে আসা মাইকের শব্দ নিভে যায়
পথের নৈঃশব্দ পার হয়ে এতদূর পৌঁছে না এখান।
একবার আমি
রাই সরিষার ক্ষেতে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম—
সব ফুল একসঙ্গে মাথা তুলে তাকায় উপরে।
মাটি বুঝি সারাক্ষণ জেগে থাকে।
মাটিরা ঘুমিয়ে গেলে নির্ভোর হয়ে পড়ে রাত।
কলাগাছিয়ার গল্প
কলাগাছিয়ায় দুপুরের গল্প মানে
গরম বাতাস আর ধানের সুগন্ধ।
খালের দুপাড়ে আজো মেয়েরা কাপড় ধোয়,
শিশুরা ডাঙার মাছ রৌদ্রে মেলে দেয়।
লখণ্ডা খালের জলে
কখনও কখনও
আলো পড়ে অদ্ভুত অচেনা
লোকেরা বলতে চায়
ওটা এক ডুবে যাওয়া হাটের কাহিনি।
একদা সন্ধ্যায় কবি জ্যোতির্ময় সেন
বাঁশি বাজাতে বাজাতে
কাঁচা রাস্তা ধরে চলে গেলে
কুকুরেরা চুপ হয়ে যায়।
বাজিতপুরের মাঠ
বাজিতপুরের মাঠে মাটির আহ্বানে
চিনাচাষ হয় না এখন।
চিনা আর কাউনের কথা মনে হলে
পায়েসের ক্ষুধা জেগে ওঠে।
বর্ষা চলে গেলে পরে আজো
মাটির শরীরে তার স্পর্শ টের পাই।
কৃষক লাঙল কাঁধে বাড়িতে ফিরছে
টেকেরহাটের পাশে
আমি কিছু হারিয়ে ফেলেছি।
কেবল বাতাসে
শুকনো তিসির শব্দ ঝনঝন বেড়ে ওঠে।
একজন ওলা দেবী দ্রুত চলে যায়।
পাখুল্লার রাত
পাখুল্লায় রাতে কেউ একাকী হাঁটে না।
কারণ সে দেখে ফেলে বাঘিয়ার বিলে
মাঝে মাঝে আগুন জ্বলে ওঠে।
আর লোকেরা জানায়–
ওগুলো হারিয়ে যাওয়া কিষাণীর কুপি।
বিলের কিনার ধরে দাঁড়িয়ে দেখেছি
একটি গরুর গাড়ি
কাদার উপর দিয়ে হেঁটে যায়
পড়েনি কোথাও দাগ লোহার চাকার
শুধু একজন পঞ্চানন রায় গেয়ে ওঠে—
‘আর-বা কদ্দূর গেইলে রে পাইম, চিলমারির বন্দর’।






