বই: ধরো, শূন্য
লেখক: শৈলজানন্দ রায়
ধরন: বাংলা কবিতা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২ পৃষ্ঠা
মূল্য: ২৪১
প্রকাশনী: বেহুলাবাংলা
আইএসবিএন:৯৭৮৯৮৪৫০৫১৭৯৮
সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ, ২০২৪
আন্তঃনগর ট্রেন
প্যারামুটেশন এবং কম্বিনেশনের মধ্যে যে সামান্য তৃষ্ণাকাতর ভৌতদূরত্ব তার মাত্রা দিয়ে অনায়াসে যেতে পারে আন্তঃনগর ট্রেন! সেই ট্রেনের ছাদে দাঁড়ালে ক্ষুদ্র পরিবর্তন মনে হয়— পৃথিবীটা মোটেই গোলাকার নয়, বরং বাঁশের মতো ছিপছিপে লম্বা আর জ্যোৎস্নার মতো গতিশীল।
ধরো, সেই না-পরিবর্তনের মতো সামান্য পরিবর্তনটুকুই ডেল এক্স। অথচ আজ ধনাত্মক পরিবর্তন নিয়ে কী মারাত্মক শ্রম, প্রদর্শনী আর মিছিল!
কোনো এক প্রগতিশীল ভোরের স্বপ্নে ভ্রম হতে পারে— কারো যাবার জন্য বুক ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু যেতে পারছে না। ট্রেনটি তীব্র একটা অগাণিতিক বাঁশি বাজিয়ে ডাকছে— যে গন্তব্যে যেতে চাও সে আসতে পারে।
ধরো, শূন্য
ধরলে অনেক কিছু-তো ধরাই যায়
যেমন এক্স ধরে কত কত অঙ্কের…
পিতাপুত্রের, ডিমের, বাঁশের… সমাধান
তবে সব ধরা-ছোঁয়ার বিধান কিন্তু বৈধ নয়
‘শূন্য’ একটি অঙ্ক— শুধু এই সিদ্ধান্তটা
বোঝাতে গিয়েই যাচ্ছে তাই অঙ্ক-কাণ্ড
কারণ ধরতব্য যা-কিছু আহত… জগতের নিবিড় সম্ভাবনা
এটা কিন্তু দুঃসাহসিক রিয়াল এনালাইসিসের অন্তর্গত!
ধরো, আমাদের ছোট একটা অবৈদ্যুতিক বাসা
সেই ভালোবাসায় পিঁড়ি পেতে চাঁদ নিমন্ত্রণ খাচ্ছে
ধরো, শূন্যের মধ্যে সমস্ত আশা-ভরসা,
মর্মাহত জগৎ সংসার বিলীন হয়ে যাচ্ছে!
ধরো, এই-যে জীবনভর আঁকড়ে থাকা ঘর,
বুকের মধ্যে ভালোবাসার শুকনো পাতার মর্মর
সব তো মৃত্যেতে মচমচ ভেঙে মহাশূন্যে সমাধি পাচ্ছে!
ধরলে অনেক কিছু-তো ধরাই যায়
তবে জীবনের যা-কিছু জ্যোতির্ময়
শেষপর্যন্ত মহাশূন্যে ছাড়া পেয়েই যায়!
বিয়োগ
যে ভ্রান্তিময় বিয়োগ চিহ্ন নিয়ে তোমার সাথে এত বিবাদ— তা কিন্তু কস্মিনকালেও মৌলিক নয়! শেষপর্যন্ত তা ভাগের অব্যবহৃত কোনো এক প্রায়োগিক বিকল্প! অথবা শরীরবিদ্যার ভাষায় বললে— বিয়োগ কিন্তু সর্বদা অঙ্কের শারীরিক চিহ্ন নয়, বরং এক রহস্যময় তরল দাগ যা সারাজীবন যোগ হয়ে থেকে যেতে পারে!
সেই বিয়োগ চিহ্ন কোনো এক নির্জন ভোরে নদী হয়ে যায়! বিশ্বাস করো, সেই কুলুকুলু নদী এক পূর্ণিমার রাতে জোনাকি-উৎসব-আকাশ হয়ে রাশি রাশি নক্ষত্রদের ধারণ করে! এরকম ধারণ করার মাধ্যমেই কিন্তু জন্ম হতে পারে! হয়তো এটাই কোনো এক দৃষ্টিকোণে থেকে জন্মের অন্তরালবর্তী রহস্য! এখানে মানুষের গাণিতিক হাত সম্পূর্ণ শিথিল!
এই সামান্য বিয়োগ চিহ্ন… ঐশ্বর্যময় শ্যামল বনবীথি! কত যে বৈচিত্র্য নিয়ে ভরে উঠেছে এই বিবাগী নিখিল!
ধ্রুবক
আমার সাথে মৌলিক সংখ্যাদের সম্পর্ক পৌনঃপুনিক ভালো যাচ্ছিল না। অনেকটা সামন্তরিকের সূত্রের মতো অস্থির!
সকল গণিতের জন্য পদ্ধতি একটা আবশ্যকীয় বিষয়। এই তত্ত্বকে বসন্তের রঙে এবং কোকিলের সুরে বলা যায়— জগৎ গণিতময়! অধিকন্তু সকল গণিতের ক্ষেত্রে উত্তর কিন্তু যথেষ্ট নয়!
সামাজিক অঙ্কের ক্ষেত্রে ডিফারেনসিয়েশন খুব কঠিন এবং নির্মম এক প্রেষণা! বিভেদ ভুলে আমাদের সমষ্টিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। রাজনীতির অঙ্ক জটিল ও বিপ্রতীপ। এখানে উত্তরই চূড়ান্ত বিষয়, পদ্ধতি কোনো প্রকার ধ্রুব কিছু নয়!
নামতা শেখার জন্য আমরা বংশপরম্পরা ধারাপাতকেই ব্যবহার করে এসেছি। ছোটবেলার ধারাপাত পরিণত বয়সে বিস্তর পার্থক্য নিয়ে বাস্তবের মুখোমুখি হয়।
থিওরি
‘শূন্য’ কী আমি বুঝি না—
তয় বুকের কিনার ঘেঁষে আসমানের লাহান যে খাঁ-খাঁ করা হা-হুতাশ,
কিংবা পরাণডার মইধ্যে সমুদ্দুরের লাহান থই-থই করে যে কথারা
হয় কইবার পারি না— এইডাই শূন্য!
পাঠশালায় শতকে পড়ার সময়
‘শূন্য’ বলে কি কিছু ছিল?
আবছা মনে পড়ে, আবার পড়ে না!
কিন্তু বুঝবার চাই— জন্মভর সংসারে জান কবুল কইরা
যে অবহেলাটুকু পাওয়া যায়— তাই কি শূন্য?
নাইলে— খিদেয় ছাওয়ালের মুখে খাবার তুলে দিবার না-পারির
যে মায়ের বুক খানখান হইয়া যায়— এইডাই শূন্য!
শূন্য পূরণে কী আর পুণ্য…
তয় কোনো উছিলায় তাও… জানে সর্বজনা।
ঘূর্ণি বাতাসের লাহান উড়ায়ে নিবার চায় যত আবর্জনা,
এই মায়ার সংসার যদি শূন্যেতেই মিলায়ে যায়—
যদি শুধু ঘুরবার লাগি এই সংসার চরকি,
তয় কিসের জন্য এই জীবন ছাই কইরা বাঁচে থাকা!
এই হাড়ভাঙা কষ্টের সান্ত্বনার মানে কী?






