বিশুষ্ক প্রান্তরের গান
শোভনা, বিশুষ্ক প্রান্তরে তুমিও-কি শুষে নাও?
বিনিদ্র রাতের বাসর— নিয়েছো সব রঙ আকাশের,
সোনালু ফুলের আর দিগন্ত-বিহারী নীল-নীলিমার?
হলুদ পোষাকের আদল পালটে যায় তোমার—
খুলে ফেলো নিমিষেই উদোম সমুদ্রের মতো,
পাহাড়ী-প্রদেশ ছেড়ে উড়ে এসে ধরা
দাও আমার মস্তিষ্কের খিলানে?
ঝড়ের তাণ্ডব ছেড়ে অসময়ে অসমীয়া মেঘ ওরে!
নীল ময়ূরের বেশে কেন তুমি বৃষ্টি নামাও,
হৃদয়ের গভীর তলদেশ—
বোধের বিন্দু ছুঁয়ে আমাকে ভাসাও,
সমুদ্রের নীল জল হও—
আরও নীল ময়ূরের পেখম?
হলুদ পাখিটারে খুঁজে ফিরি ডিব্রুগড়ের উপর,
চায়ের পাতার দেশের নীল ময়ূরী তুমি?
কতটা পারি আমি পাক্কা-শিকারীর মতোন—
তাক-করা বন্দুক হাতে নির্জন দুপুর—
আর রাতের হরিণ শিকার;
রূপান্তর
শোভনাকে পাইনি আমি— তুমি এসেছিলে ঝড়ের রাত্রি,
কালো অন্ধকারে ছেয়েছিলো লাবণ্যমাখা আমার উঠান,
বিপনি-বিতান, কর্পোরেট প্যাকেজের আকর্ষণ—
তুমি বৈশখী রাত;
ট্রাম আসে, ট্রাম যায়— আসো নাকো তুমি বুকের বাসর,
নির্লজ্জ ভিক্ষুকের মতোন শব্দেরা খেলে যায়—
মস্তিষ্ক আর করোটির ভিতর,
বিমুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকি—
রূপান্তরের খেলায় বয়ে যাও তুমি পদ্মায়—
বহুবর্ণিল সুতার ধারায়;
এখনো অনেক রাত— মেঘ গুড়গুড়,
তোমার মনের আকাশেও বৃষ্টির ছিটেফোঁটা,
অন্ধকার গুহার চেয়েও গভীর নীরবতায় ঢাকা কবর—
শ্মশানের হাড়গোড় থেকে লাফিয়ে উঠবে শোভনা—
তুমিওতো কম চাও না—
আমার কঙ্কালসার দেহপিঞ্জর;
বৃষ্টিস্নাতা শোভনা
গুলিবিদ্ধ হরিয়ালের মাতলামি সারারাত,
নির্ঘুম চোখে ‘রাত ভ’রে বৃষ্টি’ হাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে
আছো তুমি, তোমার স্বপ্নের জয়ন্ত বৃষ্টির ফাঁক গলে
ভেজানো দরোজায় আসামে কেন?
ঘুমঘোরে মেঘনায় বইছে ঝড়,
মৌসুমী মেঘের হাত ধরে আসামের ডিব্রুগড়!
জ্বলন্ত আগুনের মুখে উন্মুক্ত গ্রীবায় শোভনা তুমি!
রূপের আগুনে রোম পুড়েছে সেই কবে?
সুন্দরী নগর তিলোত্তমা!
ভাওয়াল-রাণী আর ট্রয়ের হেলেন মরে-পুড়ে-খাঁক,
প্রেমের গেলাসের মুখে থাক এসব স্মৃতির বয়ান,
আজন্ম সুন্দরী তুমি যুদ্ধ বাঁধাও চিরকাল,
জ্বলছে হরমুজ, ফুসফুসে নিকোটিন তামাম মুল্লুক;







১ Comment
কালো অন্ধকারে লাবণ্যমাখা উঠান— শিরোনামটির মধ্যেই কেমন যেন একটা মায়াবী ও রহস্যময় আবাহন লুকিয়ে আছে।
শব্দচয়ন এবং চিত্রকল্পগুলো সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। এমন চমৎকার ও গভীর ভাবনার কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য কবি মোস্তফা মোহাম্মদ ভাই আপনাকে ধন্যবাদ।