বিতর্ক
এই গ্রীষ্মে শিব-দণ্ডে কীভাবে বিশ্রাম নেয়
বোশেখ ঝড়ের পূর্বাভাস
তুমি ভাবছো এসব ঝড়ের বৃত্তান্তে
তর্কে জড়াবো না কোকিলার ভীত চোখে চেয়ে
সত্যিই তাই নদীর বর্ষার ভাষা শেখার পর
এড়িয়ে চলেছি বিতর্কের নিঃস্ব নিয়তির পথ
একটু খেয়াল করলে দেখবে
বৃষ্টিস্নানে ফেরা যুবক তোমাকে ওষ্ঠপথে রেখে
হয়তো ছুঁতে গেছে মায়ের ভেজা কবর
আরও খেয়ালি হলে দেখবে আমার সব কবিতাই
সমুদ্রের ভাষায় ঝড়ের আসনে
যদি বলো প্রেমিকের শিহরন— জড়াবো না বিতর্কে
জন্মগন্ধে
অথচ আমার কাঁধে বড়াল নদীর মেঘ
এমন চলন্ত জলজ গান্ধার দেখে
তুমি এলোকেশে খুঁজে পেলে আমাদের
প্রথম কদমতলার আঁধার
আমাদের প্রথম সহজ ও প্রথম কঠিন
আমাদের প্রথম বৃষ্টির শরীর
সহজ আর কঠিনের ভেতর
কদম ফুলের নরমে খুঁজে নিলে জন্মনদী
সরষে ইলিশ খিচুড়ির ধোঁয়ায়
এখনও বেঁচে আছি অস্তিত্বের কাছে নদীর জন্মে
সমুদ্রের ঢেউয়ে সন্ধের জন্মগন্ধের নিঃসঙ্গতায়
বলেছিলে— জন্মপাঠ অসমাপ্ত রাখলে
কিছু নদীর গভীরে না গিয়েও গভীরতা দেখা যায়
বাঁচাটা জরুরি
নদীর ভাঙনে ধ্যানবৃক্ষের দূরত্ব কমছে ক্রমশ
বর্ষাকাল এলে বটবৃক্ষ তাই থাকে উৎকণ্ঠায়
ভাবে, আহা দেখা হবে না আগামী শরতের কাশফুল
সাধুশূন্য হচ্ছে বটবৃক্ষের আলয়
তোমার মৃত্যু কামনায় যে-জন
অথচ রাক্ষসরূপে তার ইতিহাস ছিল গোপন
তাকে জলখাবার দাও ভাঙনের পারে
তাকে বাঁচিয়ে রাখো রাতের উপাখ্যানে
নির্মম উপহাস না পেলে কে দেখে মায়াবী ভোর
নীড়ে ফেরা পাখিদের পিছে বাজিকর জীবন
বাঁচাটা জরুরি এতোটাই
সর্বস্বান্ত
যে-পাখি আজ ডাকছে না মৌনতায়
সে জানে— সঙ্গম-কাঙ্খা বিষপর্বের মতো প্রয়োজন
তার সাথে জড়িয়েও আছে ফেরার ঘ্রাণ
আমার হারানো ঠিকানার সঙিন জনম
মেঘের আকাশ কাঁপছে পাখির ফেরায়
পাখিদের নীড়ে কাঁপছে সন্ধের চোখ
যে-জগত হারাচ্ছে আজ ছুঁয়ে পাহাড়ি-বীথিকা
প্রেমিক সর্বস্বান্ত হয়েও থাকে বিহ্বলতা
নিঃস্বতা যতটুকু আছে এখনও
সে-টুকু বিলিয়ে দেওয়াই তো জীবন
নরকেও ইঙ্গিত
গন্তব্য নেই কোথাও— যাচ্ছে নিভে শীত-পারাপার
এই শীতে তুমি কি যাচ্ছো কোথাও
ভেদ করে কুয়াশার ঐশ্বর্যের অন্ধকার
থাকবে পথের দৈন্য— তবুও তো পারাপার
কেন উদ্দেশ্যহীন নও কোথাও
এই শীতে মৃত নই
তবে কোথাও পড়ে আছি মৃতভাঁজ
যে-কোনও সময় প্রসারিত হলে— বাড়াবো হাত
তোমার স্বর্গ থেকে মৌরক্ষী সরিয়ে নিও
নরক থেকে এসেছি বলে ইঙ্গিতে যাই থাক
অধর তোমার স্বর্গের দুয়ার
ধরে নেবো স্বর্গেও দেখাচ্ছো সমুদ্রের পথ






