বাম্পার ফলন
কোন বায়ুতরীতে এসে ওরা
হঠাৎ জমির দখল নিল!
নীল আকাশও চমকে গেল!
কীসের অঙ্কুরোদয় ঘটাল?
তার আগে বৃক্ষশ্রেষ্ঠকে কেটে ফেলল
ধান ও গমের ক্ষেত তছনছ করে ফেলল
শাখাপ্রসারী উদ্ভিদ পত্রহীন হয়ে গেল!
বিষবৃক্ষ দ্রুত বেড়ে উঠল—
বিষবৃক্ষের ডালে ডালে ঝুলতে লাগল
ছ্যাঁছোড় ও জোচ্চর
প্রতারক ও বিশ্বাসভঙ্গকারী
দুষ্টচারী ও স্বেচ্ছাচারী!
ভয়াবহ রকম উৎপথগামীরা
এমন উৎপাত শুরু করল,
কুকীর্তি ও কলঙ্কের বাম্পার ফলন হতে লাগল!
দারুচিনি বন উজাড় হলো
আমবাগানও নষ্ট হলো
আনারস ও পেঁপেবাগানও স্বাভাবিক থাকল না,
কাঠগোলাপ ও চামেলি ফুটল না!
কারা আগদুয়ার খুলে—
আগাপাস্তলা করে করে ওদের নিয়ে এলো?
আগাছা ও পরগাছায় ভরে গেল
শস্যের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ!
পাঁড়মাতাল
যে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দোকানদারি করুক না কেন?
সে আসলে মাদক বিক্রেতা!
যে পোশাক পরেই থাকুক না কেন?
সে মাদকসেবী, পাঁড়মাতাল!
পাতাল থেকে ডুব দিয়ে আনে কী?
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কিংবা দুরবিনে দেখো
সে একটা জুয়োচ্চর?
জাহাজে জাহাজে চড়ার সুযোগ পেয়ে,
জাঁহাবাজ হয়ে উঠেছে!
কাণ্ডারি হয়ে নিজের ভাণ্ড ভরায়
অন্যের গাছের কাণ্ড কাটে,
মাঠে মাঠে ছড়িয়ে দেয় খরা!
কালাকানুনে কালাপাহাড় তৈরি করে
শুধু কচলাকচলি করে,
কলম ও কালির মর্যাদা রাখে না
—হৃদয়েরও!
সেইসব লোকেরা পালাক্রমে
মাদকতায় তাম্রশাসন চাপিয়ে দিয়ে
আরও মাতাল হয়ে ওঠে!
সুযোগ
সুযোগ পেয়েছি!
আগেভাগে ভুঁড়িভোজ করে নিই,
ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়িয়ে নিই
বউ ছেলেমেয়ের নামে
ক’টি ফ্লাট করে নিই,
এমন কি শালাশালিদের জন্য
ব্যবসার ব্যবস্থা করি!
সুযোগগুলো হাতছাড়া করবো কেন?
ধুকুরপুকুর করার দিন শেষ হয়েছে,
এখন পুকুরচুরিতে মেতে উঠি!
ইচ্ছেমতো যাকে তাকে তুলোধুনো করে
যার তার দিকে তীর নিক্ষেপ করি!
নলখাগড়ার বন থেকে বের হয়ে
বনস্পতির বাণিজ্যে মাতি,
হাতিতে চড়ে মাতোয়ারা হই
মাতাল হাওয়ায়!
বহুদিন পর—
সুযোগ এসেছে!
বহু ক্রশ হেঁটে নদী পার হয়ে
এসেছি সোনাডাঙা এলাকায়,
নিজেকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে নিই|
মোয়া-মুড়কি খাওয়ার দিন শেষ,
এখন পাঁচতারা হোটেলে গিয়ে
সকালের নাস্তা সেরে নিই!
হাতছানি দিচ্ছে কতকিছু,
পিছু পিছু এতটা সুযোগ এসে দাঁড়িয়েছে,
বাড়িয়েছে হাত!
হাতছাড়া করি কেন? ক্রেন দিয়ে তুলে নিই!
পায়ের গোড়ালি
কারো পায়ের গোড়ায় গিয়ে
গড়াগড়ি করতে পারিনি!
সে-কারণে ও-মেডেলটি গড়িয়ে গড়িয়ে
আমার ঘরে আসেনি!
যারা হামাগুড়ি দিয়ে—
পায়ের গোড়ায় গিয়ে পৌঁছে,
তাদের পায়ের গোড়ালি থাকে না!
এখনো আমার পায়ের গোড়ালি আছে!
অন্ধগলিপথ
একই সরণিতে আমরা উঠতে বাধ্য হচ্ছি—
একই সড়ক দিয়ে যেতে হচ্ছে বাড়ি,
গাড়ি চালাতে হচ্ছে একই রাস্তায়!
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়া
তরতর করে উঠতে পারবে না
তালগাছের মাথায়!
কাথায় মুড়ে শুয়ে শুয়ে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখতে হলে
ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদ লাগবে।
পুরস্কার ও মেডেল ঝোলায় তুলতে হলেও—
যোগ্যতার চেয়ে দলের পাদানিতে পা রেখে,
ক্ষমতার গাড়িতে আগে উঠতে হবে!
পালঙ্ক ও পালকিতে উঠতে হলেও—
ললাটে তোমার ক্ষমতাশীলদের সিলমোহর লাগবে!
গুলশান বা গুলবাগে থাকো না কেন?
রশুন ও পেঁয়াজ মেখে মুড়ি খেতে হলেও
দলীয় গুন্ডাদের হাততোলা অনুমতি লাগবে!
শর্করা বা প্রোটিন খাও,
কিংবা শরাব ও শরবত,
তাতেও ওদের শুভাশীষ লাগবে!
ওদের অনুমতি ছাড়া
বহুতল ভবনে ওঠার লিফট পাবে না!
বাড়ি পুড়তে থাকা আগুন নেভাতে হলেও
ওদের অনুমতির স্লিপ লাগবে।
বাগানে কাঠগোলাপ কিংবা রক্তগোলাপ
ফোটাতে চাইলেও—
আগে থেকে অনুমতি ভিক্ষা নিয়ে আসতে হবে।
ক্ষমতাশীল দলীয় রাজনীতি
সবকিছুর নিয়ামক হয়ে উঠছে,
নিয়মকানুন ও বিধি কোনো কাজে লাগছে না!
তুমি রাষ্ট্রের নাগরিক—তা ভুলে যাও
তুমি জন্মভূমির বাসিন্দা—তা ভুলে যাও!
তুমি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের
লেজুড়ে হয়ে লেজ নাড়াতে না পারলে
তোমার কোনোকিছু প্রশমন হবে না
নিবারণ হবে না!
ক্ষমতাসীন দলের ননস্টপ ধিঙি হয়ে ওঠার
দুরন্তপনা অন্ধগলিপথে ঠেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে
আমাদের প্রতিনিয়ত!






