ঢাকার মিরপুরে এক উজ্জ্বল সাহিত্যিক আয়োজনে উদ্যাপিত হলো মন ও মননের ছোটকাগজ লেখমালা-র যুগপূর্তি। কবি মামুন মুস্তাফার সম্পাদনায় প্রকাশিত এই ছোটকাগজের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার (১১ এপ্রিল) ঋদ্ধি প্রকাশন প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘লেখমালা যুগপূর্তি উৎসব’।
সাহিত্যঘন এই আয়োজনে ছিল আড্ডা, ছোটকাগজ ও কবিতাকে কেন্দ্র করে তিনটি মুক্ত আলোচনা, কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ এবং সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান। দিনের শেষ পর্বে বাচিকশিল্পী নাজমুল আহসানের নির্দেশনায় শব্দকল্পদ্রুম পরিবেশন করে আবৃত্তিনির্ভর প্রযোজনা ‘রূপসী বাংলা’, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আতা সরকার, কবি আসাদ মান্নান, গবেষক মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল এবং ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্র অনুপ্রাণন-এর সম্পাদক আবু এম ইউসুফসহ আরও অনেকে। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—লেখমালার এই দীর্ঘ পথচলা কেবল একটি পত্রিকার নয়, বরং বাংলাভাষার লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষভাবে তাঁরা সম্পাদক মামুন মুস্তাফার সাহিত্যদৃষ্টি, নন্দনবোধ এবং অভিজ্ঞতার গভীরতা তুলে ধরেন।
এবারের আয়োজনে ‘লেখমালা যুগপূর্তি পুরস্কার ২০২৬’ অর্জন করেছেন দুই বিশিষ্ট সাহিত্যব্যক্তিত্ব—স্বতন্ত্র কথনভঙ্গির জন্য পরিচিত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ এবং ছোটকাগজ আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, নিসর্গ-এর সম্পাদক সরকার আশরাফ।
অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্মের তিন প্রতিভাকেও দেওয়া হয়েছে ‘লেখমালা সম্মাননা-২০২৬’। কবিতায় সম্মানিত হয়েছেন শূন্য দশকের নিভৃতচারী কবি মামুন রশীদ; কথাসাহিত্যে স্বতন্ত্র গদ্যভাষার জন্য শ্রাবণী প্রামানিক; এবং প্রবন্ধ ও গবেষণায় মুক্তিযুদ্ধ ও লোকসাহিত্যভিত্তিক কাজের জন্য বঙ্গ রাখাল।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘গোলাম রসূল স্মৃতিপদক-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এবিএম মোশাররফ হুসাইনকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করে আসছে লেখমালা—যা ছোটকাগজটির সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা ও ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।






