জলের দোহা
যে পথ মেঘের দিকে যায় নিরিবিলি
আমার বুকের পাশে তার উপমায়
লুট হওয়া ঝিরিঝিরি পাথুরে নদীর
জলের ধ্বনির মতো আদিম সময়।
বাঁশের ছায়ার গায়ে এতো মমতায়
জড়িয়ে রেখেছো বোবা মাটির শরীর
রামধনু ছড়িয়েছে প্রজাপতি পাখা
মেঘে মেঘে ভেসে ওঠে খোয়াজ খিজির
পাহাড়ের মাটি বেয়ে উঠে যাওয়া তৃণ
ধরে ধরে চলে যাব ঝরনার মূলে
সেখানে দেখবো গিয়ে তোমার গোপন
প্রেমিকের চোখ যেন ফোটে ফুলে ফুলে
ঝরনার মন থেকে ঝরবো গহনে
যেভাবে জীবন ঝরে, নদীর দহনে
ছায়াগাছ
সুখসব ঝরে যায়
বিরহ বৃক্ষের মতো বিশ্বস্ত, অনড়—
আয়নার ভেতর কে কাঁদে!
সজ্জিত, আরও নিখুঁত কি হতে চেয়েছিল তার চোখ
প্রজাপতি-ডানার মতো পুনঃপুন, টিপটিপ?
চৌচির আয়নায়
নির্মিত হচ্ছে ছায়াগাছ
তার শাখায় শাখায় ফুল হয়ে ফুটছে আমার মন!
প্রেমও কি বৃক্ষের মতো অনড়, বিশ্বস্ত?
কেবল তুমিই প্রতারক শিকড় হয়ে
ভেদ করো আমার সমস্ত দেহ, ভূ-গর্ভস্থ জলদ হৃদয়—
তুরি
এতো তীক্ষ্ণ বাতাস
ফালি ভোরের আলোয়
আমি ঘুমহারা দেহে
মৃত স্বপ্ন ছড়াই…
তেড়ে আসছে গোহর
কালো ছড়িয়ে কিরণ
যেন পাখির দু-চোখ
মায়া যুগের বাহন—
ধীর প্রণয় গীতের
এই মিষ্টি সকালে
জিভ খাচ্ছি চিবিয়ে
যদি সত্য ফলায়!
মরা গাছের শাখায়
যে বিলুপ্ত পাত
ধীর দুলছে বাতাসে
সে কী আমার হৃদয়!
এই ভোরের হাওয়ায়
আমি রেখেছি এ বুক
ওই আসছে অধীর
তা কি সুখ না অসুখ?






