লোকটাকে ভীষণ চেনা লাগছে না? মনে হচ্ছে না এই তো ফেলে আসা স্টেশন থেকে উঠে এসে দাঁড়িয়েছে এবার। ওর দুহাত আগলে ধরে রাখা হাত ব্যাগ, টিফিন বক্সটা মনে হচ্ছে না শরীরের সঙ্গে লেপটে কেমন চারদিক থেকে যেন চেপে আছে কেমন! প্রতিদিন কী এই এক ট্রেন, এক কামরা, এভাবে উঠে এসে নিজের শরীরটাকে এই ভিড়ের মধ্যে গলিয়ে দেওয়া? নাকি ভিড় ঠেলে আরও কিছুটা এগিয়ে অন্তত জানালার কাছাকাছি একটু স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা। তারপর তো ঘণ্টাখানেক এভাবেই ঝিমিয়ে যাওয়া ট্রেনটা গড়াতে গড়াতে শিয়ালদা স্টেশন। তার মাঝে কেউ হয়তো ডেকে কী মনে করে বসতে দিলে, তখন তো জড়িয়ে ধরা ঘুম!
আমি কিন্তু দূর থেকে দেখবো লোকটাকে। হয়তো প্রতিদিন এভাবেই দেখি বলে। হয়তো প্রতিদিন এই এক ট্রেনে, এক কামরায় আমাদের দেখা হয় বলেই। হয়তো কথাও বলতে চাইবো একবার। ডেকে বলবো, সেদিন যে ফেরার সময় দেখলাম না আপনাকে? নাকি অল্পের জন্য ট্রেনটা পাননি? প্ল্যাটফর্মে এসে দেখেছেন শেষ কামরাটা পেরিয়ে যাচ্ছে কেমন হেলে-দুলে, আপনাকে একা ফেলে রেখেই।
হয়তো একবার তাকাবেন। কিংবা আমার দিকে ওর মায়া ভরা চোখ দুটো রেখে দেখবেন। তারপর কিছু হয়তো বলার চেষ্টা করবেন। ঠিক কী যে বলতে চাইবেন? কী যে খুঁজতে চাইবে আমার ভেতর। হয়তো আমার মত তরুণ একটা ছেলেকে দেখে মনে পড়ে যাবে নিজের কথা। হয়তো এমন বয়স থেকে প্রতিদিন ট্রেনে চাপার অভ্যেস। কিংবা তারও আগে থেকে—। হয়তো ওর বাড়িতে ছোটোছোটো ছেলেমেয়ে, বউ। সকালবেলা ওদের মুখ দেখেই টিফিনের ব্যাগটা হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়া। তারপর লোকাল চেপে এই একঘণ্টার পথটায় একটু ঝিমিয়ে নেওয়া। কিংবা প্রতিদিনের অভ্যাস মতো হয়তো সিট পেয়ে কেমন ঘুম ঘুম চোখ। আর বসতে না-বসতেই মাথাটা এভাবে ঢুলে পরা।
আমি দেখবো, আমার মতোই প্রতিদিন আরও যারা আপনাকে দেখবে, আর বলে উঠবে, ঘুমিয়ে নিন, ঘুমিয়ে নিন এবেলা। ঘুম ভাঙলেই তো দৌড়তে শুরু করবেন আবার।
সে হয়তো কথাটা শুনবে কি শুনবে না, নিজের মত করেই গুটিয়ে থাকবে তেমনি। সবাই তো জানে, শেষ স্টেশন এসে গেলে সত্যিই সত্যিই দৌড় শুরু করতে হবে আবার।
মানে সত্যিই কী দৌড়বেন আপনি? এই বয়সে এসে, এভাবে রোজ? এমনকি এই এত গরমে, শীত কিংবা বর্ষায় ভিজতে ভিজতে? অন্তত এতগুলি বছর যেভাবে আপনাকে দেখে এসেছি, সে তো তাই। সেই যে শিয়ালদা স্টেশনে নেমে—। ততক্ষণে গোটা স্টেশন জুড়ে ট্রেন থেকে নেমে আসা আরও কত কত যাত্রী। মানে সবাই তো তখন দৌড় শুরু করেছে নিজের নিজের গন্তব্যে। আপনিও তো সেই ভিড় সরিয়ে নিজের মতো করে চলতে শুরু করেছেন সোজা, ডাইনে-বাঁয়ে কাটিয়ে। এমনকি এই যে একটু আগে আপনাকে একজন ধাক্কা দিয়ে প্রায় ফেলে দেবে, আপনি কিন্তু ঠিক নিজেকে সামলে নিয়ে আবার চলতে শুরু করবেন। আপনার চারপাশে এতক্ষণ যারা ছিল, সবাই একে-একে সরে যাচ্ছে এবার।
আপনিও ওদের মত ডাইনে-বাঁয়ে ছড়িয়ে গিয়ে, এখন সোজা মেইন গেট পেরিয়ে ফ্লাইওভার বরাবর। সত্যি কথা বলতে কি, এই এত ভিড়ের মধ্যে ট্রেন থেকে নেমে আপনাকে আর খুঁজেই পাবো না ভেবেছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম আপনি ঠিক প্রতিদিনের মতো মহাত্মা গান্ধী রোড ধরে সোজা কলেজ স্ট্রিটের দিকেই হেঁটে যাবেন। সেই চেনা দৃশ্য। সেই পানের দোকানের সামনে একবার দাঁড়িয়ে গিয়ে হঠাৎ কি যেন খুঁজবেন। অন্যদের থেকে তখন কিন্তু ঠিক আপনাকে আলাদা করে চেনা যাবে। এমনকি এই এত ভিড়েও।
এই সময়, ঠিক এই সময় যদি কেউ নাম ধরে ডাকে। অচেনা মুখের ভিড় থেকে যদি কেউ খুঁজে পায় পরিচিত কাউকে। ঠিক চিনতে পারে সেভাবে। যদি জানতে চায়, ‘তারপর কেমন আছো তো বলো দেখি?’ কিংবা ‘কতদিন পরে দেখা হলো গো, তাই না’ তখন কিন্তু ঠিক আপনিও ‘ফেরার সময় দেখা করিস, কথা আছে’ কথাটা ছুড়ে দিতে ভুলবেন না। তারপর এগোতে এগোতে নিজের গন্তব্যটাকে হয়তো আরও একবার মিলিয়ে নিতে চাইবেন।
আজ কী মনে করে উঠে বসবেন হাওড়ার বাসে।
সত্যিই কী বাস ধরবেন আপনি? মানে বাস ধরে সোজা হাওড়া। নাকি ব্রীজের আগেই নেমে পড়বেন কোনও এক গলি মুখে। এদিকে তো অনেক গলি। কোন গলি দিয়ে যে কোন গলিতে গিয়ে উঠবেন শেষেমেশ। সেই যে পরপর দোকান ঘর। এক পাশে সরবত, ছাতুর দোকান। কি একটা মন্দির ওপাশের ফুটপাথ জুড়ে। সে সব পেরিয়ে গোডাউন, মারোয়ারি গদি। হাত ব্যাগটা তাকে ঝুলিয়ে রেখে দুহাতে এগিয়ে নেবেন খাতা আর কলম।
কিভাবে জানবো এই গদি জুড়ে কাটিয়ে দেওয়া আপনার এতগুলি বছর। এতগুলি দিন মাথা গুজে পড়ে থাকা এভাবে। এত ভারি ভারি হিসেব। এত জটিল অঙ্ক। সারাদিন কত ট্রাক এলো গেল, এক গোডাউন থেকে অন্য গোডাউন, লোডিং-আনলোডিং। কোথার জিনিস কোথায় যে যায়! সব হিসেব তো আপনার কলমের ডগাতেই। ওই মোটামোটা খাতাগুলির পাতায়। কোনও কিছুর হাঁক পড়লে সবাই তো তখন আপনার দিকেই তাকিয়ে, হিসেব চায়। সেভাবেই যেটা প্রয়োজন ঠিক টেনে বার করে এনে এক নিমেশে মিলিয়ে দেন। কাগজে-কালিতে বুঝিয়ে দেন হিসেব কাকে বলে।
আচ্ছা, কাগজ-কলম কী সব হিসেব মেলাতে পারে?
আপনি বলবেন, ভাগ্যিস লেখাপড়াটা জানা ছিল তাই। সেই যে ছোটবেলায় শেখা পাটিগণিত। ওটুকুর জন্যই তো এখনও এভাবে বেঁচে থাকা।
তখন তো অন্য জীবন। স্কুল ফাইনাল পাশ করে সেই যে বাবার সঙ্গে প্রথমবার কলকাতায় আসা। বরিশাল এক্সপ্রেস নামিয়ে দিয়ে গেল শিয়ালদা স্টেশনটায়। তখনও তো চারদিকে থিকথিকে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে কত কান্না, একথালা ফেনা ভাতের খোঁজ। স্টেশনে কাটানো সে-সব দিনরাত। একসময় বাবার অসুখ। প্লাটফর্মে বসে বসেই সেই মৃত্যু দেখা। বাবা চলে যাওয়ার পর প্লাটফর্ম ছেড়ে সেই যে বেরোলেন। সোজা গিয়ে গঙ্গায় ডুব। তারপর আবার হাঁটতে শুরু করা। কাজ চাই, মাথা গোজার আশ্রয় চাই। এভাবেই একদিন হাঁটতে হাঁটতে এই গলিমুখ। থাকা-খাওয়ার বিনিময়ে কাজের সন্ধান। আট টাকার সেই চাকরি এখন কলম ঘষতে ঘষতে আট হাজার।
বললাম, এত অল্প বেতনে হয় আপনার? মানে ছেলে-মেয়ে, বউ। ঘর ভাড়া, কারেন্টের বিল, খাওয়া খরচ বাদ দিয়েও তো কিছু খরচ থাকে? মানে অসুখ-বিসুখ? অন্য কিছু?
আপনি কিন্তু অঙ্ক কষে ঠিক বুঝিয়ে দেবেন, হ্যাঁ হয়। চালিয়ে নিতে হয়। এমনকি গতবছর ভাড়া বাড়ি বদলে দুকাঠার নিজের বাড়ি, মেয়ের বিয়ে দেওয়া, সেটাও হয়।
অবশ্য সবটা যে মালিকের দয়ায়, ধারে নেওয়া টাকায়। তাই বা কজনে দেয়। বিপদের দিনে একমাত্র তো সে ছিল বলেই না। মাসে মাসে অবশ্য বেতন থেকে কেটে নেওয়া সেই সুদ। এভাবেই চালিয়ে নেওয়া জীবন। এভাবেই লিখতে লিখতে গড়িয়ে যাওয়া দিন।
দুপুরের দিকে লেখার ফাঁকে খাতা-কলম তুলে সেই ব্যাগ খুলে বসা। বাড়ি থেকে বয়ে আনা খাবার মুখে তোলা। তারপর দুপুর পেরিয়ে বিকেল, বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যে হলে সবকিছু গুছিয়ে একটু একটু করে গুটিয়ে নেওয়া। সাতটা পেরোলেই বেড়িয়ে পরা ফিরতি পথ ধরে বাড়ির পথে।
ফেরার পথে সারাদিনের ধকল, কি কি কাজ হল আজ, সব কিন্তু বলে যাবেন আপনি। কোথার মাল কোথায় গেল। এমনকি দুপুরে টিফিনে, মানে ভাত খেতে দেরি হল কেন আজ। কেন ডালটা টক হয়ে গেছিল। সব। যেন আপনার সবটাই বলে ফেলবেন আমায়। আর বলবেন নিজের কথা। বলবেন, ছেলেটা এবার ফাইনাল ইয়ার। কলেজ থেকে বেরোলেই ঢুকিয়ে দেবেন কাজে। মানে মালিককে বলে সোজা গদিতে। সবকিছু শিখিয়ে-পড়িয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে ছুটি নেবেন আপনি। ছুটি মানে প্রতিদিনের এই ট্রেন ধরা থেকে ছুটি। তখন কিছুটা অবসর। তখন সারাদিন বাড়িতে অল্প কিছু কাজ।
আমি দেখবো আপনি কেমন উদাস হয়ে জানালার বাইরে চোখ রাখবেন। বাইরে আলো ঝলমলে স্টেশন পেরিয়ে গেলে অন্ধকার পথ ঘাট। সেই অন্ধকার ভেদ করে ছুটে চলা এক একটা স্টেশন। এমনকি দুপাশে ঘরবাড়ি, গাছপালা, মানুষ— সবকিছুকে পিছনে ফেলে শুধুই এগিয়ে যাওয়া। এর মধ্যেই হঠাৎ হঠাৎ উজ্জ্বল আলো। দুচোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া। আর একটু পরেই সেই আলো সরে গিয়ে অন্ধকার। এভাবেই স্টেশনের পর স্টেশন, কিছু যাত্রীর ফিরে আসা, বাকিদের নেমে যাওয়া নিজেদের গন্তব্যে। অন্যরা সেই একই রকম।
আপনার চোখ এখনও জানলার ওপাড়ে। দেখবেন, আপনার ছেলে কলেজ পেরিয়ে সদ্য কাজে ঢুকেছে। সেও এখন নিয়ম করে প্রতিদিন এই একই ট্রেন। এভাবেই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ হাতে ট্রেন ধরতে বেরিয়ে পরা। প্লাটফর্মে এসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে না দিতেই ঢুকে পড়ে না লোকাল। একঘণ্টার জার্নি শেষ করে শিয়ালদা স্টেশন। সেই একইভাবে ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়া শহরের এলিতে-গলিতে।
এখন সকাল হলে খাবার বানিয়ে দেওয়ার তাড়া থাকে না আপনার স্ত্রীর। এখন সকাল-বিকেল চেনা মানুষগুলোর সঙ্গে কথা হয় না আর। এমনকি দেখাও হয় না। একমাত্র ট্রেনটাই রোজ একই ভাবে নিয়ম করে আসে, চলে যায়। ফিরেও যায় ঠিক সময়ে। এভাবেই অনবরত চলতে থাকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছর। সেই ট্রেনে প্রতিদিন নতুন যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। আর পুরনো যাত্রীরা হারিয়ে যায় কোনও ফাঁকা স্টেশন দেখে।
আমি দেখবো, শহর পেরিয়ে এখন গ্রামে ঢুকে পড়েছে ট্রেন। এখন চারদিকে ফাঁকা মাঠ। অনেক দূর পর্যন্ত আলোহীন পথ। এদিকে অনেক অনেক দূর পর্যন্ত নীরবতা। এই নীরবতা পেরোলেই আপনার স্টেশন। আপনিও নেমে যাবেন শেষ বারের মতো। ট্রেন আপনাকে নামিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যাবে নিশ্চিন্ত মনে। আপনার মনে হবে, আগামীকাল থেকে আপনার ছুটি। আগামীকাল থেকে আপনার বিশ্রাম নেওয়ার দিন। আগামীকাল থেকে আপনি আর এই ট্রেনের যাত্রী নন।
আগামীকাল সকাল হলে এই লোকালের যাত্রীরা, এই কামরায় আপনাকে দেখতে পেয়ে কিন্তু চমকে যাবো ঠিক আমার মতো। অবাক হয়ে জানতে চাইবে, আরে, আপনার না মশাই আজ থেকে ছুটি নেওয়ার দিন?
আপনি কিন্তু শান্ত গলায় বলবেন, আমাদের আর ছুটি কোথায়? এখন কী আর ছুটি নেওয়ার সময় আছে? একি সরকারি চাকরি নাকি হে?
আমি কিছুটা থতমত খেয়ে যাবো। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলবো, কিন্তু আপনার ছেলে? কলেজ পেরিয়ে সে তো এখন আপনার মতোই—।
ভিড় বাড়ছে। সেই ভিড়ে বাড়ছে আমাদের দূরত্ব। এখন আমার কথাগুলো অনেকটা দূরে সরে সরে যাচ্ছে। সরে যাচ্ছেন আপনিও। আরও কত মুখ এসে আমাদের ব্যবধানটাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি এই দরজার মুখ থেকে সরতে সরতে এখন প্রায় জানলার কাছে এসে। কি আশ্চর্য, আপনাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না কেন আমি? আপনি কি তবে নেমে গেলেন এই মাত্র? কিন্তু শেষ স্টেশন না এলে তো আপনার নেমে যাওয়ার কথা নয়। তাহলে কি এই এত ভিড়ের মধ্যে আপনি এখন ব্যস্ত নিজেকে সামলাতে। নিজের ব্যাগ, টিফিন বক্স নিয়ে—। নাকি বসবার সিট পেয়ে একটু ঝিমিয়ে নিচ্ছেন আবার উঠে পড়তে হবে বলে।
শেষ স্টেশনটা এলে, ভিড় কমলে অবশ্য আপনাকে খুঁজতে থাকবো আমি। যেন একবার পেলে আর কিছুতেই হারাতে চাইবো না আর। এমনকি যতটা পথ আপনার সঙ্গে হাঁটা যায়, সেভাবেই দুজনে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে একসময় অফিসের রাস্তা ধরবো আমি। আপনি যেন ঠিক সেই গলি ধরে আরও দূর সরে যাবেন এবার।
কিন্তু আরও আশ্চর্য হয়ে দেখবো, আজ ফেরার পথেও আপনাকে কিছুতেই খুঁজে পাবো না আমি। এমনকি প্লাটফর্ম জুড়ে এই এত মানুষের থিকথিকে ভিড়েও না। আপনি কি তাহলে আজও আসেননি? নাকি কাজের চাপে এখনও বেরোতে পারেননি গলিমুখ থেকে। কিংবা বাস না পেয়ে হয়তো হেঁটে আসতে আসতেই পেরিয়ে যাবে শেষ ট্রেন।
আপনি কি তাহলে সারারাত প্লাটফর্মেই কাটিয়ে দেবেন? মানে শেষ ট্রেন চলে যাবার পর তো প্লাটফর্মের বাইরে এই এত রাতেও কত মানুষের থেকে যায়। ওদের মতোই আপনিও কি প্রথম ট্রেনের অপেক্ষা বসে থাকবেন? নাকি সকাল হওয়ার আগে, ভোর ভোর বেরিয়ে পড়বেন নতুন কোনও কাজের খোঁজে। নতুন কোনও জীবন। সেই যে তখন, সেভাবে।
আমি যেন বিশ্বাসই করতে পারবো না— তিনদিন, চারদিন, এক সপ্তাহ, এমনকি এক মাস, এতগুলি বছর কিভাবে যে কেটে যাবে। কিভাবে যে একসময় আপনার কথা ভুলেই যাবো আমি। কিভাবে ভুলে যাবে এই গোটা কামরার প্রতিদিনের সব নিত্য যাত্রীর দল। সবাই ভুলে যাবে আপনি একসময় রোজ এই এক ট্রেনে চেপে, এক কামরায় উঠে এসে বসতেন এভাবে পাশে। তারপর কথা বলতে বলতে গড়িয়ে যেত কত কত পথ।
বিশ্বাস করুন এখন এই এতগুলি বছর পর, সেই আপনাকে ভুলে যাওয়ার পরও, খুব খুব জানতে ইচ্ছে করছে, আপনার সেই ছেলেটি কি কলেজ পাস করে এখন রোজ আপনারই মতো, ট্রেনে চেপে—? নাকি সে এখন সারাদিন বাড়িতে, অল্প কিছু কাজ।






