আত্মপ্রতিকৃতি
অনেক পথের চোয়ালে
অনেক মারীর মুহূর্তে
অনেক পান্থনিবাসে
অনেক ব্যসনের খোপে
অনেক মরচুয়ারিতে
অনেক রণক্ষেত্রে–
দেখেছি
আমার মুখ;
আমারি চোখের দোষে
আমারি হৃদয়ের রোগে
আমারি ভুলের মাশুলে
থুবড়ে পড়ে আছে–
পৃথিবীর বাঁকে বাঁকে
অনেক ব্যথায় ক্ষত বিক্ষত!
একটি মৃদু গান
পৃথিবীতে কি রেখে যাব
তার বিবরণ কিংবা সম্ভাব্য সম্ভারের সূচি
তুমিও পারবে সাজাতে–
উদ্ভিন্ন তৃণের মতো গজানো গুল্মের বাইরে
এ এমন কিছু নয়
ফুল-ফলের বেশি নয় কিছু চমকের!
পৃথিবী থেকে কি নিয়ে যাব
ঘোরতর এই প্রশ্নে বহুদিন বহুরাত পার করে;
বহুক্ষণ অপেক্ষার উৎপাত শেষে শোনা গেলো গান
মানুষের সুখ-স্বপ্নের গান
মানুষের বিদীর্ণ বিচ্ছেদী;
আদি-উন্মেষ হতে যে বাজছে হৃদয়ে মৃদু, অফুরান…
নিজেকে হারিয়ে
কিছু জিনিস ফেলে আসা ভালো
সব নিয়ে এলে স্বার্থপর মনে হয়
মনে হয়, পেছনে পেছনে কেউ বলছে:
পৃথিবীর সবকিছুকে প্রয়োজনীয় ভেবে
এই যে যান্ত্রিক একটা লোক, আহা বেচারা
জীবনের ভার বইতে বইতে বিধ্বস্ত
তার করুণা প্রয়োজন!
কিছু জিনিস হারিয়ে যাওয়া ভালো
না হারালে বুঝাই যায় না কোনটা দরকারি
আর কোনটা কেবলি মাথার বোঝা!
কখনও কখনও মর্মের আঘাত মনোময়
শির কাঁপে, অশ্রু ঝরে, রক্ত বয় বুকে
তাই কখনও নিজেকে হারাই
কখনও ফেলে আসি সবকিছু
তাই হাওয়ায় রেখে যাই গান, কথা ও কবিতা
ইচ্ছের অধিরতা
রেখে যাই খাতা ও কলম
রেখে যাই অতিযাপনের ক্ষয়ক্ষতি;
ব্যর্থ ভ্রমরের স্বর– হৃদয়ের কথকতা!
শুনো তাজেল গো
ওরা তোমাকে বলবে খোলো, সব খুলে ফেলো; এক-হার সোনার বিছাও চলবে না,
ওরা তোমাকে মাংসের মহিমা দেখাবে এবং সরবে শোনাবে বর্তুল-বক্ষ ও তম্বুরা-পাছার বাখান,
ওরা তোমাকে বশ করতে চাইবে ফ্ল্যাটে-পার্টিতে, রিলে-ঝিলে কিংবা হাইহিলে!
আবার তোমার আশপাশের কিছু লোক যাদের তুমি চেনো এবং পুরনো জ্ঞান করো;
যারা তোমাকে প্রতিনিয়ত ঢেকে রাখার বিষয়ে বলে এবং ঘ্যানঘ্যান করে
বিভিন্ন বিধি-নিষেধের কথা বলতে বলতে হয়রান করে ফেলে;
তাদের কথাও তুমি একটু ভেবে দেখতে পারো যেহেতু আজকের দিনটি গতকালের
দিনেরই অনুরূপ এবং ইতিহাসে যুগযাত্রার বিকার বা বিচ্যুতির বিবরণ লেখা নেই!






