আজকের দিনটা একেবারেই আমার ছিল
যেদিকে তাকালাম যা বললাম সব আমার হয়ে গেল
আমি বললাম পারিজাত ওমনি ও পারিজাত হয়ে গেল
বললাম পদ্ম ওমনি ও পদ্মপুকুর হয়ে গেল
নীল বলতে নীলগাই প্রেজেন্ট
আকাশের দিকে তাকালাম ও নীলাকাশ হয়ে গেল
সূর্যের দিকে তাকালাম সোনালী রোদ হয়ে গেল
কেন? কেন এমন হচ্ছে আজ?
শীত শিশির কুয়াশার চাঁদর তবে কি অবশেষ?
লেকের গাছগুলোর হাসিমাখা মুখ
গ্লাসে চোখ রেখে দেখছি
সুন্দরবন কিংবা আমাজন বনের কথা মনে পড়ে
ওরা যদি ওখানে থাকতো কেমন হত?
সড়কে কোন জট নেই আজ!
নেই হরতাল, অবরোধ!
থেমে নেই কেউ! চলছে, চলছে, অবিরাম চলছে!
কে জানি দিয়ে গেল শিস? কারা যেন স্পন্সর?
ফুল কিংবা নদী অথবা দারুচিনি নয়
জ্যোতিষির কাছে গেলাম।
হস্তরেখা খুঁজে না পেয়ে
রাশি জিজ্ঞেস করা মাত্র হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম।
বায়োডাটা পড়ে একবার বললেন—
“তুমি মীন রাশির জাতক।”
পরক্ষণেই আবার বললেন— “না না, তুমি কন্যা রাশির জাতক।”
আবারও চিৎকার করে উঠলেন—
“না না!
কোনো নক্ষত্রের সাথেই কোনো যোগসূত্র নেই;
তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে আরো শত কোটি বছর।”
দেখি, তোমার চোখের বর্ণ কেমন?
আতঙ্কে উঠে বললেন— “এ কেমন কথা!
তোমার তো চোখই নেই!”
শত শত কোটি বছর এমন অন্ধকার পথ কেমন হাঁটলাম?
— কালকেতুর কাছে আমার জিজ্ঞাসা।
মাদুলি
ক্লিওপেট্রার নাম নিতেই ভেসে ওঠে
জুলিয়াস সিজার
এন্টোনি
ব্রুটাস
এবং হার্মিসাসের মুখ।
তেমনি তোমার নাম নিতেই ভেসে ওঠে
নাতাসার দিঘি,
পাইলট মাঠ,
পথকলি স্কুল
এবং শ্রাবণের মুষলবৃষ্টি।
কাঠের আয়না বিক্রি করে,
বেইলি রোড থেকে একটা বার্বিডল এনেছি
লেকমি কাজলে চোখ এঁকে—
দেখছি ক্লিওপেট্রার মুকুটে সাপের ছবি।
এই সাপের কি নাম দেবো— ব্রুটাস!
রাখি বন্ধনের পায়েস হাতে দাঁড়িয়ে কাকে তুমি ইনভাইট করছো?
সে কি মার্ক এন্টোনি!
ট্রেন চলে যায় পিরামিড ছেড়ে
কি কথা বলতে এসেছো? বল হার্মিসিস!
সারি ঘাটের কাশফুল দুলে ওঠে
শরতের নীল জোছনায়
কোমরে তোমার প্রেমের বাজুবন্দ
বুকে পদ্মফুল,
ছুটছি রানওয়ে… একপাশে ইলোরা, একপাশে অজন্তা
আর কত… আর কতদূর
সোনা রুপা মিশেল একটা মাদুলির।
