ওস্তাদ সুশীল কারিগর উপুড় হয়ে নিশ্চুপ পড়ে আছেন নত মস্তকে। পিঠের বামপাশ থেকে তাজা রক্ত এখনো গড়িয়ে পড়ছে। তীরের ফলাটা পিঠের ভেতরে সম্পূর্ণ ঢুকে গেছে মনে হয়। সম্ভবত হৃদপিণ্ডটা এফোড়ওফোড় হয়ে গেছে তীরের আঘাতে। প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে আসা ভাস্কর্যটা যেন নিশ্চুপ তাকিয়ে আছে ওস্তাদের লুটিয়ে পরা নিস্তেজ দেহটার দিকে। চারদিক নীরব নিস্তব্ধ। পাখিদের কোলাহলও যেন নির্বাক। গাছেদের পাতানড়া স্তব্ধ। উনার আদরের কুকুরটাও মাটিতে থুঁতনি লেপটে পাশেই নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কুকুরের চোখ জোড়ার কষ্টের দাপাদাপি আরো প্রকাশ করতে পারলেই যেন অশ্রুজল টপটপ করে গড়িয়ে পড়বে।
প্রায় সমাপ্ত হয়ে আসা ভাস্কর্যটা নিয়ে ওস্তাদ সুশীল কারিগরের বিশাল স্বপ্ন ছিল। পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি, নিশাদ, রিশাদ, চারদিকের গাছপালা, পাখপাখালি আর প্রাসাদের চারপাশে বিস্তীর্ণ জলাভূমি, শস্যক্ষেত্র, বনভূমি অদূরেই গ্রামের মানুষদের নিয়ে ছিল বিশাল স্বপ্ন। ওস্তাদ সুশীল কারিগর স্বপ্ন দেখতেন একটা সুন্দর, শান্ত ও মনোরম বাংলাদেশের। যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেই ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সকলে সমান তালে পরম শান্তিতে বসবাস করবে। প্রত্যেকেই পরস্পরের কাঁধে কাঁধ রেখে শান্তিতে থাকবে। দেশকে নিজের মায়ের চেয়েও ভালোবাসতেন। দেশকে ভালোবাসা মানেই তো দেশের সবকিছুকে ভালোবাসা। ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের পর উনার বাবা যেমন মাতৃভূমির টানকে উপেক্ষা করতে পারেননি তেমনি তিনিও পারেননি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের সকলে দেশ ত্যাগ করে ভারত চলে যায়। কিন্তু সুশীল কারিগর মাটির টানে এদেশেই থেকে যান। দেশ ত্যাগ করে যাবার বেলায় মা মালবিকা দেবী অনেক কান্নাকাটি করেছিলেন। সুশীল কারিগর সবকিছু উপেক্ষা করে দেশের মাটিকে আঁকড়ে ধরে থেকে যান। মাকে ভালবাসেন না তা কিন্তু নয়। কিন্তু দেশের কাছে নিজের মাকেও তিনি তুচ্ছ মনে করেছিলেন। তবে মা-বাবার রেখে যাওয়া স্মৃতির প্রাসাদ তিনি আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। প্রাসাদের প্রতিটি ইট, কাঠ, পাথরে লেগেছে উনার ভালোবাসার হাতের ছোঁয়া। বাগানবাড়িটি নিজের মনের মত করে সাজিয়েছেন এবং গাছগাছালির ভেতর গেড়েছেন নতুন প্রাণ। পাখপাখালির অবাধ বিচরণ আর কিচিরমিচির যেন বাড়ির আঙ্গিনাকে করে রাখে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। তারপরও কোথায় যেন কী নেই, কী নেই! একাকী একা বিশাল বাড়িতে থাকেন। মনের রঙে জীবনের প্রতিটি ভোরকে রাঙিয়ে তুলেন। সুশীল কারিগরের রাঙানো রঙিন আভায় যেন সকলে দিনকে দিন আলোকিত হচ্ছে। কিন্তু তবুও কোথায় যেন হালকা হালকা ছন্নছাড়া সুর জীবনকে মাঝে মাঝে এলোমেলো করে দিতে উদ্যত হয়। তবে সুশীল কারিগর হাল ছাড়বার পাত্র নন। নিজের স্বপ্নসাধনা রিশাদ আর নিশাদের মাঝে গেঁথে দিচ্ছেন। দুজনকে দুই ভুবনের আঙিনায় বেঁধে ভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী করে তুলছেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামের পরও বিশাল জমিদারির জৌলুস কমলেও ছন্নছাড়া করেননি সুশীল কারিগর। যতটুকু পেরেছেন আগলে রেখেছেন। বিশাল প্রাসাদ, বাগানবাড়ি, পুকুর আর দীঘি, প্রাসাদ লাগোয়া বিস্তীর্ণ ক্ষেত এখনো হাতের মুঠোয় আগলে রেখেছেন। দূরের কিছু কিছু জমি ছেড়ে দিয়েছেন ঝামেলায এড়ানোর জন্য। আশেপাশে গ্রামের জমিগুলো বন্ধকি হিসেবে নিজের রেখেছেন এখনো। প্রাসাদের লাগোয়া না হলেও কাছেই একটা বিল এখনো বিলের মতোই রেখেছেন। জমিজমা চাষাবাদের পাশাপাশি বিশাল মাছের আধার। বিলটাও রেখেছেন নিজের এক্তিয়ারে। প্রাসাদ লাগোয়া প্রায় অর্ধ বর্গমাইল সুশীল কারিগরের নিত্য চলাচলের সীমানা।
বর্তমানের তার পুরো এলাকাটিকে রিশাদ ও নিশাদকে দুই ভাগে নির্দেশ করে দিয়েছেন। উত্তর প্রান্ত হতে দক্ষিণের শেষ প্রান্ত, ওখান থেকে পশ্চিমে শেষ প্রান্ত হয়ে উত্তর সীমানা পর্যন্ত নিশাদের সীমানা। আর অপর প্রান্তে উত্তরের শেষ প্রান্ত হতে দক্ষিণের শেষ সীমানা হয়ে পূর্বপ্রান্ত ধরে উত্তর সীমানায় এসে ছুঁয়েছে রিশাদের সীমানা।
নিশাদের সীমানায় আছে বাগানবাড়ি অসংখ্য গাছ-গাছালি সাথে পাখপাখালির বিশাল রাজ্য। সুশীল কারিগর যে সীমানায় বসে বসে কাদামাটিতে ভাস্কর্যটি গড়ছেন আপন মনে সেটা নিশাদের আঙিনায়। নিশাদের সারা উঠান জুড়ে গানবাজনা, নৃত্যের ও তার যাবতীয় অনুষ্ঠানের দুর্দান্ত ছড়াছড়ি। অপরদিকে রিশাদের ব্যায়াম, ঘোড়দৌড় ও তীর ধনুকের প্রবল আধিপত্য। ঘোড়দৌড়ের বিশাল মাঠ, ব্যায়ামবীর ও তীরন্দাজ হতে যাবতীয় অনুষঙ্গ রিশাদের নিত্য সঙ্গী। সুশীল কারিগর পরম যত্নে দুজনকে পাকাপোক্ত করে তুলছেন তিলতিল করে।
নিশাদ দিনকে দিন নাচ, গান, শিল্প সাহিত্যে বেশ পারদর্শী হচ্ছে। নাচের মুদ্রা, তাল এবং লয়ে প্রকৃতির প্রতিটি কোনায় যেন তালে তালে নৃত্য করে। গানের মধুময় সুরে চারপাশে স্বর্গীয় আবহ গড়ে ওঠে। পাখিরাও যেন নিমগ্ন হয়ে শুনে নিশাদের মন মাতানো সুরের লহর। পুরো প্রকৃতি যেন নিমগ্ন হয়ে নীল আকাশ আর মানুষের মধ্যে মিতালি গড়ে তুলে। শিল্প সংস্কৃতির প্রতিটি কোণায় কোণায় নিশাদ যেন পরম স্নেহে ডুব দেয় সর্বক্ষণ। যেখানে মঙ্গলময় আবাহনের গীত চলে মানুষের কল্যাণে। সুরের মূর্ছনায় সুশীল কারিগর আবগাহন করতে করতে প্রস্ফুটিত করছেন অপূর্ব ভাস্কর্য। কাদামাটির প্রলেপে প্রলেপে সুরের মধুময় মূর্ছনায় দিন দিন আলোকিত হচ্ছে এই ভাস্কর্য। গাছ, পাখি, লতারা যেন মুগ্ধ নয়নে চেয়ে চেয়ে দেখে এই ভাস্কর্যের রূপসৌন্দর্য। শুধু রিশাদ কখনোই এই আঙিনায় দৃষ্টি ফেলে না। সে ব্যস্ত থাকে তীরন্দাজ হতে, তলোয়ারের ঝনঝন শব্দে মগ্ন থাকে, ব্যায়ামে ব্যায়ামে শরীরটাকে পূর্ণ যোদ্ধায় রূপান্তরিত করতে ব্যস্ত। আর টাট্টু ঘোড়ার পিঠে চড়ে দূর করে মনের সকল ক্লান্তি। ঘোড়ার পায়ের খুড়ের শব্দে শান্ত পাখিরা উড়ে চলে যায় দূর কোথাও। আর গাছপালা, লতাপাতা ধূলায় ধূলায় ধূসরিত হয়।
*
পড়ন্ত বিকেল। সুশীল কারিগরের জীবনখাতাও পড়ন্ত সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি ভাস্কর্য নির্মাণে ভীষণরকম নিমগ্ন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এখন রিশাদ, নিশাদ আর ভাস্কর্য নির্মাণে ঢেলে দিচ্ছেন। তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এখন রিশাদ, নিশাদ আর ভাস্কর্য নির্মাণে ভাগ করা। ভাস্কর্য নির্মাণে, নিশাদের সঙ্গীত-নৃত্য-সাহিত্য, ও সংস্কৃতি সাধনায় আর রিশাদের যুদ্ধ কৌশল, তীরন্দাজী শিক্ষা, ঘোড়দৌড়সহ নিজের যৎকিঞ্চিৎ ব্যক্তিগত কর্মেই পুরোদিন অতি সূক্ষ্মভাবে বন্টন করে ব্যয় করেন তিনি। এত ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে প্রফুল্ল রাখেন মনের খোরাকে গুনগুন করে গানের সুরে ডুব দিয়ে। গোধূলি বেলায় মোলায়েম সূর্যস্নাত নানান পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত আনন্দঘন মুহূর্তে, নিশাদের অপূর্ব কন্ঠস্বরের সুললিত গানের সুরে উদাস হয়ে থাকেন। প্রকৃতির সকল সুখ থেকে নিজেকে রাঙিয়ে নেন জীবনের পরম সুধায়। আর পরম শান্তিতে বিচরণ করেন এই পৃথিবীর মুগ্ধতায় পূর্ণ মুহূর্তে। এই পরম মুহূর্তে আশেপাশের সকল প্রতিবেশীদের রাঙিয়ে তোলেন। নিজের ভালোলাগা, ভালোথাকা, কুড়িয়ে পাওয়া সকল সুন্দরে নিজেকে রাঙান আর প্রতিবেশীদেরকে পরম আনন্দে রাঙিয়ে নেন। সকলের ভালো থাকায় আর আনন্দের মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে রাখেন সর্বক্ষণ। কোনরকম দুঃখ কিংবা বিষাদ সুশীল কারিগরকে কখনো স্পর্শ করতে পারে না। স্বজন হারানোর বেদনা আর শোককে তিনি পরম শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। সকল ভালোবাসা আর মমতার আলিঙ্গনে যেমন রিশাদ ও নিশাদকে রাঙিয়ে তোলেন। ঠিক তেমনি প্রতিবেশি সকলকে নিজের ভাবনায় আগলে পরম মমতায় ডুবিয়ে রাখেন। যেন প্রকৃতি পরম মমতায় সবাইকে দক্ষিণা বাতাসে মুগ্ধ করে চলেছে অবিরত।
ভাস্কর্যটির মূল আকৃতি ও কাঠামো দাঁড়িয়েছে। এখন ফিনিশিং চলছে; হাত, পা, চোখ, মুখ, নাক, কান, গলা, চুল এসবের দিকে নজর সুশীল কারিগরের। পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছেন না-ফুটানো ভাস্কর্যের চোখে। গভীর ধ্যান মগ্ন হয়ে কী যেন ভাবছেন। ভাস্কর্যটি মানুষ্য আকৃতিরই বলা চলে। উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি হবে না। কেমন যেন চেনাজানা মনে হচ্ছে। মাধবীলতার স্নিগ্ধছায়ার তলে সৌম্য আকৃতির ভাস্কর্যটি নিয়ে সুশীল কারিগর যেন ধ্যানমগ্ন। কাদামাটি গোলানো পানিতে তুলি চুবাচ্ছেন আর ভাস্কর্যের গায়ে আলতো আলতো ছোঁয়া দিচ্ছেন। একবার কপালে ছোঁয়াছেন তো আবার কপোলে আবার হস্তযুগলে স্পর্শ করেই পদযুগলে ছোঁয়াচ্ছেন কাদামাখা তুলি। ধীরে ধীরে ভাস্কর্যটি যেন স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। উঠানের দক্ষিণ কোণের হাসনাহেনার সুস্নিগ্ধ সুগন্ধি বাতাস এসে নাকের ওপর আছড়ে পড়তেই সুশীল কারিগর সম্বিৎ ফিরে পেলেন। গোধূলি পেরিয়ে সন্ধ্যার আহবানে তুলিটি রেখে দিলেন।
পায়ের আওয়াজ পেয়ে পেছন ফিরে তাকালেন ওস্তাদ সুশীল কারিগর। আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে জিজ্ঞাসা করলেন- কিছু বলবে নিশাদ?
নিশাদের আশ্চর্য ভরা দৃষ্টি ভাস্কর্যের ওপর, জবাবে বলল- না ওস্তাদ। আপনার কাদামাটির ভাস্কর্যটি দেখছিলাম।
কিছু না বলে কৌতুহল ভরা দৃষ্টিতে শিষ্যের দিকে তাকিয়ে রইলেন ওস্তাদ।
বুঝতে পেরে নিশাদ বলে- ওস্তাদ আমি দিনকে দিন ভীষণ অবাক হচ্ছি!
যেমন?- আশ্চর্যভরা চোখে তাকান ওস্তাদ।
আপনার ভাস্কর্যটি যতই দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি ওস্তাদ!
ওস্তাদ সুশীল কারিগর মাথা নাড়ান স্নিগ্ধ আবেগে। কাদামাখা দুটো হাত পরস্পরে স্পর্শ করেন।
নিশাদ বলতেই থাকে- কোথায় যেন দেখেছি! দেখলে মনে হয় হাজার বছরের চেনাজানা কেউ! মনে হয় আমার ভীষণ আপনজন! জড়িয়ে ধরে মনের কথা বলি! মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে, ভাবি সকল গান উজার করে দেই! এই ভাস্কর্য দেখলে আমার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে! পৃথিবীর সকল সুখ আমার মনের মধ্যে বাসা বাঁধে! প্রতিটি গানের কলি তখন আমার কাছে স্বর্গসুখ হয়ে ওঠে! আপনার এই কাদামাটির ভাস্কর্যে আমি খুঁজে পাই পৃথিবীর সকল মানুষের সুখানুভূতি! আমি খুঁজে পাই পাখিদের নীড়ে ফেরা সুখের মুহূর্ত!- কথা বলতে বলতে নিশাদ ওস্তাদের দিকে তাকিয়ে অবাক ও অস্ফুটস্বরে বলে- ওস্তাদ! আপনি কাঁদছেন?
সুশীল কারিগর নিশাদকে জড়িয়ে ধরে অব্যক্ত আবেগে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন- বাবা নিশাদ, আমার জীবন সার্থক! আমি তোমাকে যেভাবে গড়তে চেয়েছিলাম তুমি ঠিক তেমন মানুষ হয়েছো। আমি তোমার মাঝে পরিপূর্ণ মানবিক মানুষকে খুঁজে পেয়েছি! আমার গুরুজীবন সার্থক, সার্থক আমার জীবন।
ওস্তাদকে কদমবুচি করে নিশাদ বলে- ওস্তাদ, আপনার মত মানুষের সংস্পর্শে এসে আমি সত্যি মানুষ হয়েছি। বাকিটা জীবন যেন আপনার দেয়া রঙে পৃথিবী রাঙাতে পারি!
নিজের আবেগকে সামলে নিয়ে ওস্তাদ সুশীল কারিগর শিষ্য নিশাদের দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন- আমি সত্যি গর্বিত নিশাদ! এই বলে এক স্বর্গীয় হাসি ছড়িয়ে আবারো বলেন- তুমি হাত মুখ ধুয়ে অপেক্ষা করো। আমি রিশাদকে নিয়ে আসছি। একসাথে চা-নাস্তা করবো। উত্তরের অপেক্ষা না করে ওস্তাদ প্রাসাদের পেছনের দিকে পা বাড়ান।
*
গোধূলি বেলা পেরিয়ে সূর্যের শেষ আভাটুকু পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যা বেলার মুহূর্তকে জানান দিচ্ছে। কৃষ্ণচূড়ার নিচে পাঠাতনটায় গা এলিয়ে দেন ওস্তাদ। উত্তরের বিস্তীর্ণ মাঠের দিকে তাকিয়ে আছেন। রিশাদ এখনো গোধূলীর ধূলা উড়িয়ে ঘোড়া নিয়ে ব্যস্ত। মাঠটাতে এখনো চক্রাকারে ঘুরছে বিরামহীন। সন্ধ্যার প্রলেপ ঝাপসা থেকে আরও ঝাপসা হচ্ছে। রিশাদ সম্ভবত এদিকেই আসছে এখন। ওস্তাদ উঠে দাঁড়ায়। রিশাদ কাছাকাছি হতেই ওস্তাদ বলেন- আজকের মত শেষ করো রিশাদ। সন্ধ্যা হয়ে এলো বলে।
-জি ওস্তাদ!
-কেমন প্র্যাকটিস হলো আজ?
-দারুণ! আপনার দেয়া সবগুলো টিপস এন্ড ট্রিকস প্রয়োগ করেছি ওস্তাদ, দারুণ! রিশাদের কথা বলার মাঝে উজ্জ্বলতা আর উচ্ছলতা ছড়িয়ে পড়ে।
হঠাৎ মনে পড়েছে এমন ভঙ্গি করে ওস্তাদ বলেন- রিশাদ একটু সাবধানে থেকো!
বুক টান টান করে কোমরে রাখা তলোয়ারে হাত স্পর্শ করে রিশাদ বলে- কেন ওস্তাদ? কোন সমস্যা? কেউ কিছু বলেছে আপনাকে?
-না রিশাদ, তেমন কিছু না। গত রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেছি তোমাকে নিয়ে! স্বপ্ন কখনো কখনো সত্যি হয়ে যায়। সাবধানে থেকো।
রিশাদ একটু স্বাভাবিক হয়ে অবাক এবং তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকায়।
-স্বপ্নে দেখলাম কয়েকজন অচেনা অজানা লোক তোমার উপর হামলা করেছে। তেমন কিছু না, তবুও সাবধানে থেকো।
রিশাদ বুক টানটান করে উত্তেজিত হয়ে বলে- পৃথিবীতে এমন কোন মায়ের সন্তান নেই যে, আমার উপর আক্রমণ করে।
ওস্তাদ বেশ শান্ত স্বরেই বলেন- রিশাদ অনর্থক কখনো উত্তেজিত হয়ো না। কেউ তোমাকে আক্রমণ করেনি। তাছাড়া এত অহংকার কখনো -দেখাবে না। অহংকার পতনের মূল!
-ওস্তাদ আমি অহংকার করছি না। বাস্তবটা বলছি মাত্র। কেউ আমাকে আক্রমণ করলে ওর বংশ নির্বংশ করে ফেলব আমি। আমার সক্ষমতা বলছি মাত্র।
শিষ্যের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওস্তাদ আবারো বলেন- তা বুঝেছি! কিন্তু অনর্থক বাক্য ব্যয় বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়। বিপদে আপদে -নিজেকে এবং প্রতিবেশীকে রক্ষা করবে এই আমার শিক্ষা।
রিশাদ উত্তরে কোন কথা বলে না। কিন্তু চেহারা এবং ভাবভঙ্গিমায় উদ্ধত ভাব ছড়িয়ে আছে।
-প্রয়োজন ছাড়া এবং অনর্থক কোনোদিন কাউকে আক্রমণ করবে না। বীর যোদ্ধা কখনো নিরীহদের আক্রমণ করে না।
-জি!- রিশাদের সংক্ষিপ্ত উত্তর।
কন্ঠস্বরের তিক্ততা বুঝতে পেরে ওস্তাদ আবারও বলেন- জীবনে চলতে গেলে নীতি-নৈতিকতা মেনে চলবে সবসময়। তাহলে পৃথিবীর বুকে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। নিজের স্বার্থে অন্যের স্বার্থকে ধূলিস্যাৎ করলে কখনো টিকে থাকতে পারবে না। হয়তো ক্ষণিকে জয়ের স্বাদ পাবে কিন্তু পৃথিবীর বুকে তোমার কৃতিত্ব নশ্বর।
রিশাদের সংক্ষিপ্ত উত্তর- জি!
-একটা কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, শত্রুর সাথে শত্রুতা আর মারামারি করতে পারো কিন্তু যে তোমার সাথে শত্রুতা করবে না তার সাথে কখনো শত্রুতা করবে না। যে শত্রুতা করে সে শত্রু। যদি তুমি অনর্থক শত্রুতা করো তবে তুমি অপরাধী। আর অপরাধীদের শাস্তি প্রাপ্তি অবধারিত; সেটা আজ হোক কিংবা কাল অথবা পরশু। প্রকৃতি কখনো অপরাধীকে ক্ষমা করে না। প্রকৃতি হলো ঈশ্বরের মূল অঙ্গ।
রিশাদ কোন কথা বাড়ায় না, চুপচাপ থাকে। কিন্তু বুক টান টান করে উত্তরে শূন্য দৃষ্টি মেলে দেয়।
ওস্তাদ কথা না বাড়িয়ে বলেন- রিশাদ যাও, হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা টেবিলে এসো।
-জি।– বলেই রিশাদ চলে যায় নিজের ঘরের দিকে।
*
চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু ওস্তাদ সুশীল কারিগর কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে চুপচাপ বসে আছেন। রিশাদের আচরণ দিন দিন কেমন যেন উগ্র থেকে উগ্রতর হচ্ছে। একদিকে ভাস্কর্যের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে আর পাল্লা দিয়ে অন্যদিকে ওর উগ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।। ভাস্কর্য স্পষ্ট হচ্ছে রিশাদের উগ্রতা যেন সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলছে। ওস্তাদ মনে মনে বিড়বিড় করেন- এমন শিক্ষা তো ওকে দিইনি! তাহলে? আমি তো প্রতিরোধের দীক্ষা দিচ্ছি, শত্রু মোকাবেলার শিক্ষা দিচ্ছি, যুদ্ধের নীতি শিক্ষা দিচ্ছি কিন্তু দিনকে দিন সে বদলে যাচ্ছে! তাহলে এর মূল কারণ কী?
হাতে টাকা থাকলে কোন কোন মানুষের ব্যবহার অতি অপরিচিত হয়ে ওঠে। আবার কারো কারো হাতে অস্ত্র থাকলে সর্বদা উত্তেজিত থাকে। টাকা ও অস্ত্রে উত্তাপ সকলে সহ্য করতে পারে না। তবে কি তাই?- নানান প্রশ্ন মনের ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে ওস্তাদের। অথচ রিশাদ-নিশাদকে যেদিন বাজার থেকে কুড়িয়ে আনেন সেদিন ছিল ওরা সৌম্য, শান্ত, ধীর ও স্থির।-
এক যুগ আগের কথা। সুশীল কারিগর সাধারণত সন্ধ্যার আগেই বাড়িতে ফিরেন। বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে বাজারে কখনো সন্ধ্যার পর অবস্থান করেন না। ছিল হাটবার। সন্ধ্যার আগেই ধুম বৃষ্টিতে আটকে যান। যথারীতি বৃষ্টি কমলে পা বাড়ান বাড়ির দিকে। বাজারের রাস্তার শেষ মাথা পেরিয়ে গোরস্থানের রাস্তায় পা ফেলতেই কান্নার শব্দ কানে এলো। থমকে দাঁড়ালেন তিনি। টর্চ জ্বালিয়ে আশেপাশে দেখলেন, কেউ নেই। কান্নার কোন শব্দও নেই। আবার হাঁটা শুরু করলেন। কয়েক কদম এগোতেই আবার কান্নার শব্দ কানে ভেসে এলো; স্পষ্ট শুনতে পেলেন বাচ্চা ছেলের কান্না এবং একজন নয় দুজন। টর্চের আলো ফেলে খুঁজতে লাগলেন। কেউ কোথাও নেই, বেশ আশ্চর্য লাগছে ব্যাপারটা। আশাহত হয়ে ফিরতে যাবেন এমন সময় দেয়াল লাগোয়া ঝোঁপটা নড়ে ওঠলো। এগিয়ে গিয়ে একেবারে অবাক হলেন সুশীল কারিগর। দুটো বাচ্চা ছেলে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপছে। কাছাকাছি হয়ে হাঁটু গেড়ে বসলেন। অনেকক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেও কিছুই জানতে পারলেন না। একবার ভাবলেন থানায় গিয়ে দিয়ে আসতে। আবার ভাবলেন এখন রাত হয়ে গেছে ঝামেলা করার কোন দরকার নেই। যা করার আগামীকাল করা যাবে। ছেলে দুটোকে সঙ্গে করে নিয়ে এলেন বাড়িতে। অনেক চেষ্টার পর ওদের নাম জানতে পারলেন বড় ছেলেটির নাম নিশাদ বয়স আনুমানিক নয় থেকে দশ বছর। ছোট ছেলেটির নাম রিশাদ বয়সটা কাছাকাছিই হবে হয়তো সাত অথবা আট হবে। আর তেমন কিছুই জানতে পারেননি।
পরদিন প্লান মাফিক আশেপাশের এলাকায় মাইকিং করেও কোন খোঁজ খবর কিংবা ঠিকানা কিছুই পেলেন না । এক সপ্তাহ অপেক্ষা করে থানায় গিয়ে দারোগা সাহেবের সাথে কথা বলে নিজের জিম্মায় নিয়ে নিলেন দুটো ছেলেকে। সেই থেকে দুজনকে নিজের সন্তানের মত লালন-পালন করছেন।
পাতার মর্মর শব্দ পেয়ে পেছন ফিরে তাকান সুশীল কারিগর। নিশাদ এদিকে আসছে; কাছে এসেই উদ্বিগ্ন কন্ঠে জানতে চায়- ওস্তাদ মন খারাপ করে এখানে বসে আছেন কেন?
কোন কথা না বলে উঠে দাঁড়ান ওস্তাদ; নীরবে হাঁটতে থাকেন। পিছু পিছু নিশাদও হাটে। তবে দুজনে চুপচাপ।
*
ভর পূর্ণিমা। জোছনাভরা আকাশ আর অগণিত তারা । চারদিকে খুশি আর আনন্দের ছড়াছড়ি যেন প্রতি মুহূর্তে মনকে আলোড়িত করে চলছে। মৃদুমন্দ দখিনা হাওয়া মনকে জুড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে প্রতিক্ষণ। ঝিরঝির বাতাসে পাতাদের আনন্দ জাগানিয়া শব্দ মনকে উদ্বেলিত করে। ঝোপের আড়ালে জোনাকপোকাদের লুকোচুরি, আহ! চারদিকে শুধু আনন্দ আর আনন্দ। ওস্তাদ সুশীল কারিগরের মনটা আরও বেশি উৎফুল্ল। নিশাদতো গেয়েই ওঠল- আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে…!
এত আনন্দের মাঝে শিয়ালের হুক্কা হুয়া ডাকটুকু বেশ বেমানান ও শ্রুতিকটু করে তুলে পুরো পরিবেশটাকে।
ভাস্কর্যে রঙতুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন। আর মনের আনন্দে গুনগুন করে গান গাইছেন ওস্তাদ সুশীল কারিগর। নিশাদ ও রিশাদ ওস্তাদের কথামতো উপস্থিত। তুলির আঁচর থামিয়ে ওস্তাদ বলেন- নিশাদ কেমন হয়েছে ভাস্কর্যটা?
অপূর্ব ওস্তাদ, অপূর্ব! এই ভাস্কর্যে পৃথিবীর সকল সুখ আর আনন্দ জড়িয়ে আছে যেন! এদিকে তাকালেই মনটা প্রশান্তিতে ডুবে থাকে! পৃথিবীর সকল আনন্দ এখানে নত হয়! মহাবিশ্বের সকল সুখ আর সৌন্দর্য পুঞ্জিভূত করলেও কম হবে ওস্তাদ!
ওস্তাদ খুশিতে আটখানা হয়ে বলেন- তাই! সত্যি বলছো?
হ্যাঁ, ওস্তাদ। পৃথিবীর তাবৎ রূপ-সৌন্দর্য, সুখ-শান্তি, আরাধনার রূপ আমি এখানে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।
ওস্তাদ রিশাদের দিকে তাকান- হাত দুটো বুকের উপর আড়াআড়ি করে ফেলে বুকটা টানটান করে দাঁড়িয়ে আছে সে। চোখের দৃষ্টি জোড়ায় অসন্তুষ্টিতে ভরপুর; অবয়বে লেপ্টে আছে হিংস্রতার মসৃণ প্রলেপ। চোখ জোড়া টগবগ করতে করতে লাল হয়ে আছে। রিশাদের ভাব জগতে ঘুরপাক খাচ্ছে; তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীর ছায়ামূর্তি। ভাস্কর্যের অবয়বে নিশাদের প্রতিবেশ স্পষ্টভাবে খেলা করছে; নাচ, গান আর সুরের লহর। প্রকৃতির যত রূপ লাবণ্য সব এক হয়ে নিশাদের হাসিমাখা তৃপ্ত মুখখনা যেন এই ভাস্কর্য! রিশাদ রাগে ফোঁসফোঁস করতে লাগলো! আর মনে মনে সে প্রতিজ্ঞা করলো- আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং এর কারিগরকে আমি ধুলিস্যাৎ করে দেবো এই পৃথিবী থেকে।
রিশাদ তুমি কি বলো? আমার এই ভাস্কর্যটি কেমন লাগছে তোমার কাছে?- এই বলে ওস্তাদ সুশীল কারিগর রিশাদের কাছে এসে দাঁড়ায়।
রিশাদের সম্বিৎ ফিরে আসে ওস্তাদের ডাকে। অপ্রস্তুত হয়েও বেশ গাম্ভীর্যের সাথে বলে- আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে কখনো ভালো বলতে পারব না ওস্তাদ!- বলেই রাগান্বিত চেহারা আড়াল করে স্থান ত্যাগ করে রিশাদ।
ওস্তাদ সুশীল কারীগর অবাক হতে গিয়েও যেন বিস্ময়ের ঘোরে পুরোপুরি ডুবে গেলেন। কোন কথাই কন্ঠ থেকে বের হচ্ছে না এই মুহূর্তে। ফ্যালফ্যাল চোখে নিশাদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। নিশাদ ওস্তাদের পা জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে- ওস্তাদ, আমার ভাইকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন! আমি যাচ্ছি ওর সাথে কথা বলেই ফিরে আসছি।- এই বলে উত্তরের অপেক্ষা না করেই রিশাদের প্রস্থানদিকে পা বাড়ায় নিশাদ।
*
আহত পাখির মত ছটফট করতে করতে ওস্তাদ সুশীল কারিগর ভাস্কর্যের পাদদেশে গড়িয়ে পড়েন। অন্তরের ভেতর কান্নার ঢেউ জোছনার রুপালি আলোয় যেন চিকচিক করছে। শোকের বার্তা যেন আনাচে-কানাচে মুহুর্তেই লেপটে গেল। বাতাসে বাতাসে সুন্দরের অব্যক্ত কষ্টগুলো মেঘরাশিকে যেন মুহূর্তেই ম্লান করে দিয়েছে। একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অস্ফুট কণ্ঠস্বর বেরিয়ে আসে- আমিতো রিশাদকে এমন ক্রুর ও প্রতিশোধ পরায়ণ যোদ্ধা হিসেবে শিক্ষা দিতে চাইনি। সে যোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু হিংসাপরায়ণ! হিংসাপরায়ণ! হিংসাপরায়ণ!- বলতে বলতে ডুঁকড়ে কাঁদতে লাগলেন।
নিশাদ রিশাদকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যে ঘরে থাকে, যেখানে ব্যায়াম করে, বাংলো ঘর, প্রাসাদের পেছনের কৃষ্ণচূড়ার নিচে সবখানেই খোঁজ করেছে। কোথাও সে নেই।
টাট্টু ঘোড়ার চিহিহি শব্দে ফিরে তাকায় নিশাদ আর বিড়বিড় করে বলে- নিশ্চয়ই রিশাদ যাচ্ছে!
চাঁদনী রাত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মুহূর্তেই চোখের সীমানা পেরিয়ে টাট্টু ঘোড়া চোখের দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গেল।
বেদনাহত হৃদয়ে নিশাদ ফিরে আসে ওস্তাদের কাছে। বেদনাহত নিশাদ বেদনায় বেদনায় মুহূর্তেই নীল হয়ে গেল! ওস্তাদের পিঠে তীর বিঁধে আছে। এগিয়ে ধরতে যেতেই ওস্তাদ প্রবল কষ্ট ডিঙিয়ে উচ্চারণ করেন- নিশাদ বাবা আমার, তুমি রিশাদকে কখনো ক্ষমা করবে না! সে মানবতার শত্রু, সুন্দরের শত্রু! ওর মত যোদ্ধার এই সুন্দর পৃথিবীতে কোন প্রয়োজন নেই! আমি এই জীবনে কোনদিন প্রতিশোধ পরায়ণ কোন মন্ত্র তোমাকে দেইনি। কিন্তু এখন বলছি রিশাদকে তুমি শেষ করে দেবে! আর যেন কোনো গান, সুর আর শুভক্ষণ সৃষ্টির মৃত্যু যেন না ঘটে। উহ!- খুব কষ্টে উচ্চারণ করেই ওস্তাদ সুশীল কারিগর ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢলে পড়লেন।
