প্যাঁচাল — ৪
‘অ বেশ্শোম দা, কোয়ানে যাচ্ছো ? আর অ্যাহালা অ্যাহালা কী বজোর বজোর এত্তি এত্তি যাচ্ছো ? বসো দি এট্টু এই শানের পরে।
বসো বসো’ — পেল্লাদ বেশ্শোমকে ডেকে বসাতে চাইলো কালীগাছতলার বাঁধাই করা আসনের ওপর। কিন্তু আধা-পাগল বেশ্শোম কথা থামায় না ! কথা বলতে তালেই থাকে। তবে, তার কথাগুলোয় কিন্তু সমাজের অনেক সত্যই উচ্চকিত হয় ! আর তা এ পাড়ার নতুন যুবকেরা বেশ মুগ্ধ হয়েই উপভোগ করে।
যাই হোক, বেশ্শোম শেষ পর্যন্ত বসলো পেল্লাদের পাশে। সুখদেব আর পুণ্যও ছিলো পাশাপাশি বসা।
সুখদেব বললো, ‘কী নিয়ে অ্যাহালা অ্যাহালা বজোর বজোর এরে কথা কতি কতি যাতিলে, কও দি এট্টু, শুনি ? পুণ্য বলে উঠলো, ‘তুমি অ্যাহোন যাচ্ছো কোয়ানে এই বৈকাল বেলায় ?’
বেশ্শোম বললো, ‘ওরে, তোর বৌদি সূঁই আর সুতো কিন্তি পাঠায়ছে খগেনের দোকানেত্তে। তোরা অ্যাহোন আর নাগাল নোস্নে, বুইর্ছি ? আমি উঠি।’ বেশ্শোম উঠে যাচ্ছিলো, কিন্তু সুখদেব তার হাত ধরে খানিকটা জোর করেই তাকে বসিয়ে রাখলো।
পুণ্য বলে উঠলো, ‘বেশ্শোম দা, তোমার বয়স অ্যাহোন কতো অতি পারে, কওদি ?’ ‘কতো আর অবে ? ষাট-টাট্ অতি পারে, বোধায়’, বেশ্শোম বললো।
পেল্লাদ বললো, ‘আচ্ছা, দাদা তুমি কিন্তু সমাজের অনেক বিচ কথা কোতি পারো। কোয়েও থায়ো। আমরা, মানে, পাড়ার যুবকরা অ্যাহেবারে পুলকিত অইয়ে সে-সব শুনি। তুমি সমাজের কোয়ানে কী অচ্ছে, কোয়ানে কী বেকায়দা অচ্ছে, কোয়ানে কী যাচ্ছে-তাই ব্যাপার-স্যাপার ঘট্তেছে — তুমি সব খবর রাহো। রসের কথা, ফস্টি-নস্টির কথা, পঁচা মাতব্বরির কথা, বিভিন্ন চাকরিতি ঘুষ দিয়ে ফেরত না পেয়ে কষ্ট পাওয়ার কথা — সব তুমি জানে’ ফ্যালো যে-কোনো কায়দায়। ভারী অ্যাট্টা মজাংক্স থায়ে তোমার সব কথায়, দাদা।’
বেশ্শোম বললো, ‘এই জন্যি তুরগে আমি খুব ভালোবাসি। তোরা — পাড়ায় এই যে কিছ্ ুযুবক ছ্যামড়া আছিস্ — আমার কাছে সবকিছু শুনতি চাস্ — এ-সব ভাবলি সত্যিই আমার ভালো ঠ্যায়ে। তো শোন্, তুরগে বৌদিরি আমি সূঁই আর সুতো কিনে দিয়ে আসি, তারপর আজোর অয়ে ম্যালা ম্যালা কথা কোতি পারবানি। তোরা আমারে পাগল ভাবিস্ আর যা ভাবিস্, আমি কিন্তু তলে তলে সমাজের সবকিছইু ভালো এরে খবর রাহি। আমি ফিরে আস্্তিছি।’ বেশ্্শোম আবার তার আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।
সুখদেব বললো, ‘ওরে, ধুৎ ! অ্যাহোন বৈকাল চাড্ডে বাজেছে মোটে। তুমি আমাগে সাথে এট্টু আড্ডা-টাট্টা মারো। পরে অ্যাহেবারে দোকানপাট সারে’ অ্যাকসাথে আমরা বাড়ির দিক যাবানি।’
যে কথা, সেই কাজ।
বেশ্শোম বসে পড়লো। বিভিন্ন বিষয়ে সে কথাও শুরু করলো।
বেশ্শোম বললো, ‘দ্যাখ্, তুগে যে বয়েস, তাতে, তুরগে ঝি-তি যা যা ভালো ঠ্যায়ে, স্বাদ লাগে, তাই খালি খাতি চাস্। অ্যাহেবারে চাটে-পুটে গিলে খাস্। তা আমার কথা অচ্ছে — তোরা তা ক্যান্ খাবি ? শোন্, আমার কথার মদ্দি কিন্তু কোনো কথা কবানা কেউ ! শালা, তুগে এট্টুও হিসেব নেই ! নেমন্তন্ন পালি তো মাছ-মাংস খাইয়ে অ্যাহেবারে, হে ! শেষে যতি স্ট্রোক করে মরিস্ ? ঐ উত্তরডাঙির র্পেমোথো কিন্তু ১৫/১৬ দিন আগে স্ট্রোক করেই শেষ অয়ছে ! প্রায় পেত্তেক দিন ও প্যাট্ ভ’রে মাংস খা’তো ! সংসারের অবস্থা ম্যালা খারপ ছিলো না। শুনিছি খাইয়ে খাইয়ে তো ভালো তাগড়া বডি বানাইলো ! প্রেসার বাঁধাইয়ে নোইলো ! বটতলার বরুণ ডাক্তারের কাছ্তে আমি শুনিছি সব। প্রেসারের ওষোধ ঠিক মতো খা’তো ও।’
পেল্লাদ কথা আর না কয়ে পারলো না ! ও বললো, ‘অ বেশ্শোম দা, তুমি তো খালি নীতিকথা কতি চাও, কিন্তু আমাগে যে খালি খাতি ছ্যারে, দাদা ! সাথে তো আরও কিঞ্চিৎ ‘কিছু’ চলে। কী চলে, তা তুমি জানো। বিড়ি-চুরোটের সাথে অতি-সামান্য গাঁজা-টাজা খাই। আড়ালে-আবডালে বসে খাই। তাও পুলিশির তাবোড় তো আমাগে মাঝে মাঝে খাতি অয়। কিন্তু ঘের-ভেড়ী করা গরু-পোষা — এসব কিন্তু করি আমরা। আলসেমি এরি নে! আমাগে করো বিয়েও অইনি, দাদা।’
‘পেল্লাদের কথা অ্যহেবারে ঠিক, দাদা। আমরা কী আর কবো, কও ? কিছু ভুল সাধনা করে ফেলেছি ! আর মত্তি তো অ্যাক্দিন অবেই ! তবে, যদ্দূর পারি, সাবধানে থায়ার চেষ্টা এরি, দাদা। সেই জন্যি বৈকালে-টৈকালে তোমারে পালি বিভিন্ন রস-তামাশার কতা শুন্তি চাই তোমার কাছ্ থে’, পুণ্য বললো।
সুখদেব বললো, ‘আ্যহোন্ উপদেশ-টুপোদেশ আর শুন্তি ছ্যাত্তেছে না। রসের কথা-টথা কও। তায়ালি ভালো ঠ্যাক্পেনে। জোনাদ্ধোন খ্যালবেনে মনে ! অ্যাহেবারে নাইচ্ কি পুটোলি পুটোলি ! বোঝো তো, দাদা, আমাগে বয়েসের অ্যাট্টা চাহিদা তো আছেই, কী কও, দাদা ?’
বেশ্শোম একটু উচ্চমার্গীয় স্বরে বলে উঠলো, ‘তুরগে এট্টুও হিসেব নেই ! খাইয়ে খাইয়ে সব র্ম ! শালা, দিন দিন যে কেরাম মানুষ হচ্ছিস্ তোরা — চিন্তা এত্তি এত্তি মরে গেলাম! ওরে, ঝি-তি যা যা স্বাদ লাগায়, তা বেশি বেশি খালি মরে যাতি অয় ! নেমন্তোন্ন পালি তো তুগে কথাই নেই ! দেহিছি তো, মাংসোর ঝোল-টোল সব ভাতের সাথে মাহাইয়ে চ্য্টাকাইয়ে চ্যাটকাইয়ে খাস্ তোরা। তুগে নজ্জাও অ্যারে না ! সেই সাথে গাঁজা-টাজা তো আছেই! সব তো বুঝি। তুগে পরে আমার রাগ অয় খুব !’
সুখদেব বললো, ‘দাদাগো, দাদা, রাগ মোটে কোরে না আমাগে পরে ? ও রে রসের কথা-টথা তো শোনা অলো না অ্যাহোন তাক্তি !’
‘শোন্, তুগে আর কী কবো ? কিছু কিছু যুবক দেহিছি, নেমন্তোন্ন পালি ওরা খালি মাংস খাতি চায়। চুকনগরের আব্বাসের হোটেলে দুই-অ্যাক মাস পর পর উরগে যাতি দিতি হবেই ! আমি সব খবর রাহি, বুঝলি ? তো খাইয়ে খাইয়ে শরীর তাগড়া বানাচ্ছে। প্যাট্ মোটা অচ্ছে। গজোন্দুরির গণেশের কেস্ টা দ্যাখ্্। ওর বয়েস তো বেশি অইলো না ! ৩৫/৩৬ বছোর অতি পারে !্ — স্ট্র্ােক করে মরে গিইলো !’
পেল্লাদ বললো, ‘আসলে গণেশ অকালেই ঝরে গেছে ! ৫/৬ মাস আগে আমি গজোন্দুর গ্রামে ডোঙা-সারানে মেস্তোরি খুঁজদি গেলাম। সবাই কোতিলো — গণেশের সংসারে বেতাল চাপ ছিলো ! কিন্তু চাপ থাকলু বা কী ? খাওয়া-দাওয়ার কোরো বাছ্-বিচার কোত্তো না ও। আর মাংস যা খা’তো ! ওরে বাবা ! দশরথ দা’র মাইয়ের বিয়ের নেমোন্তন্নে অ্যাক যায়গায় বয়লাম আমরা। সেইদিন দ্যাহেলাম ওর মাংস খাওয়া ! অ্যাহেতো মাছের ঘেরের কাজ — ভেড়ির পরে নেট লাগানো কাজ, বিচিত্র সব্জির চাষ করা, গোওলি ৩/৪-ডে গরুরি খাওয়ানো, গা-ধোওয়ানে, গোমাই পরিস্কার করা — খাওয়া-দাওয়ার সময় না-পাওয়া — এই সব ঝামেলায় কিন্তু ও ভালো মতোই ছিলো। আর কলাম না ? — মাংস-টাংসো পালি তো ও গোগ্রাসে গিলতো! অনিয়ম-কু-নিয়ম অ্যারা — ঘোম ঠিকমতো না পড়া — প্রেসারের ওষুধ ঠিক মতো না খাওয়া গণেশের শরীলডারে দিনে দিনে শেষ করে দিইলো, বেশ্শোম দা ! গাঁজা-টাজাও কোম-বেশি ও খাতো’।’
পুণ্য বললো, ‘বছরে দুই-অ্যাকবার গণেশের সাথে দ্যাহা ওতো নতুন হাটে। আমার কাগার ভায়রা তো ? — তাই সংসারের কতা দ্যাহা হলি মাঝে মাঝে কোতো। আসলে অ্যাহালা অ্যাহালা ৩ ডে মাছের ঘেরের কাজ কোত্তি যাইয়ে শরীলডা ওর খুব চাপ খাতিলো।’
বেশ্শোম বললো, ‘তোমরা তো বিচ কথাডা শুনলে না অ্যাহোন তাকতি ! দুই ছাবাল-মাইয়ে অ’য়ে যাওয়া ওর বউডা যে বে-লাইন এরে নইলো, তা জানো ? ঐ বটতলার অনার্স-পড়া ভবেনের সাথে লাইন এরে বেলাইন অ’য়ে গিইলো বউডা। গণেশ যে এ-সব কেচ্ছা জানতো না, তা না। কিন্তু সারা দিনরাত প্রায় মাছের ঘেরেই থাক্তি ওতো গণেশের। বউডার দুই ছাবাল-মাইয়ে হোলু শরীলি বেশ জোশ্ ছিলো, আগুন ছিলো। নাচা-পাচা অ্যারার বয়েস ছিলো বউডার।’
পুণ্য বলে উঠলো, ‘এবার রস পাচ্ছি, বেশ্শোম দা। এট্টু বেশি বেশি রস দিয়ে কতা কও। তার পর কী অইলো ?’
সুখদেব বললো, ‘ম্যালা দিন পরে তোমার রসের হাঁড়ির মুখটা এট্টু খুল্লে, দাদা। দারুন দেচ্ছো, দাদা। আরও কও। তারপর কী অইলো ?’
বেশ্শোম বললো, ‘ওরে, ভবেন তো যাতো’ গণেশের সাত বছরের ছাবালডারে প্রাইভেট পড়াতি। সে ক্লাস ওযানেত্তে প্রাইভেট পড়ানে শুরু অ্যারে ছাবালডারে। প্রাইভেট পড়াতি পড়াতি পড়ে গ্যালো সোজা পঁচা খানায় ! কী যে ভালোফাসা এরে ফেলিলো ! কলি কবানে কচ্ছো ক্যানো — অ্যাহেবারে ম্যালা সময় ধরে ভ’রে থাকতো গণেশ্গে ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মতো। কী যে ফস্টি-নস্টি, হে ! পাড়ার দুই-অ্যাক্জোন কিন্তু এট্টু ফিস্ফাস্ এত্তো। বিন্তু কে কার আর কতা শোনে ? দুই ছাবাল-মাইয়ে আর ঠাউরদা তো থাকতো ইস্কুলি! আর এ দিকি কাম র্সাতো গণেশের বউ আর মিস্টার ভবেনচন্দ্র।’
‘তারপর কী অইলো, কও, দাদা ? আরও রস দাও, আমরা স্বাদ নি আরাম ছে !’ — পেল্লাদ বললো।
বেশ্শোমও বেশ পুলকিত হয়ে বললো, ‘তুগে ভালো ঠ্যাক্তেছে আমার কথা শুনে ? আমারও কোতি ছ্যাত্তেছে। তারপর তো আসল রসের কথা আছে। কান খাড়া এরে মনোযোগ দিয়ে শোন তোরা।’
বেশ্শোম বললো, ‘নোটোর ফোটোর এত্তি এত্তি অ্যাক্দিন ছাবাল-মাইয়ে দু’ডো থুইয়ে বউডা করিলো কী, জানিস্ ? জানিস্্ নে তোরা ?’
সুখদেবে বললো, চার কান্দার সব ধরণের কথা তো আগে তুমিই জানাবা আমাগে। তারপর তো জানতি পারবো।’
বেশ্শোম বললো, ‘সুযোগ বুঝে বউডা ভবেনের বাড়ি যাইয়ে ঠেলে উঠিলো বছোর দেডেক আগে। ভবেন্গে পাড়ার বিধান আছে না ? ঐ যে যার পান-বিড়ির দোকান ঠেছে বটতলা বাজারের দক্ষিণ পাশে — ঐ বিধানই আমারে নাড়ী-নক্ষত্র জানাইলো। ভবেনগে বাড়ি ৩/৪ দিন থায়ার পর নগেন ব্রাহ্মণরে ডা’হে সাত ঘুল্লি দিয়ে বিয়েরে ফ্যালাইলো। আসে-পাশের লোকজন থাইয়ে এই আরাম-পাওয়া কাজডা করে দিইলো।’
‘ছাবাল-মাইয়ে দু’ডো আর গণেশের কী ওইলো তায়ালি ?’ — সুখদেব বললো।
পুণ্য বললো, ‘তলে তলে তো সাংঘাতিক সিরিকাস্ ঘটনা ঘটিলো দেখ্তিছি !’
বেশ্শোম বললো, ‘হ্যাঁ, ভবেনের বাড়ি চলে আসার দিন থ্রি-তি পড়া ছাবাল আর ওয়ানে-পড়া মাইয়ে দু’ডো ইস্কুলি ছিলো। উরগে বুড়ো ঠাউরদা পাড়ার ইস্কুলি নিয়ে যা’তো। উগে ঠাম্মা তো মরে গিইলো কয় বছর আগে! স্কুলি ঢুইয়ে গেলি উগে ঠাউরদা স্কুলির পাশের বট গাছতলায় বসে থাকতো। আর গণেশ তো খালি গরু আর মাছের ঘের নিয়েই প’ড়ে থাক্তো। কেউ যহোন বাড়ি ছিলো না, তহোনই তো ঐ বউ ও ভবেন কাজটা করে ফ্যালাইলো — ঠেলে উঠিলো ভবেন্গে বাড়ি। আর করবে না ক্যান্ ? অ্যাক যায়গায় থাক্তি থাক্তি দু’জনের শরীলি তো, হে ! অ্যাহেবারে জোনাদ্ধোন খেলে গিইলো ! অ্যাহেবারে যাচ্ছে-তাই ্ব্যাপার ! আমার এ-সব আর কোতি ছ্যাত্তেছে না ! এরাম প্যাঁচাল আর পাড়্তি ছ্যাত্তেছে না!’
পেল্লাদ বললো, ‘তায়ালি শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ালো ?’
বেশ্শোম বললো, ‘ভবেনের এরাম কাজডা অ্যারার পাছে দু’ডো কারণ খুঁজে পাইছি আমি। অ্যাক নম্বর ওলো — বউডা আর ভবেনের ছিলো ম্যাচ আর কাঠির মতো জ্বলে ওঠার মতো বয়েস। আর অ্যাট্টা বিশেষ কথা ওলো — ভবেনের বিধবা মায়ের অ্যাট্টা কাহিনি ছিলো — সেডা ওলো — ওর মা কোম বয়েসেই বিধবা অইলো। তাই পশ্চিম পাড়ার ঢ্যামনা শৈলেনের সাথে ভবেনের চোহির পরে বাড়ির আরেক ঘরে সারারাত শুয়ে থাক্তো। আর কী শুনবি তোরা, ক’ ? রথীন নেম্বর আমারে এ-সব কইলো, বুঝলি ? ভবেন নাহি ওর মা-র উপর রাগ করে এরাম কাহিনি ঘটাইলো।’
সুখদেব বললো, ‘বেশ্শোম দা, দু’ডো কারণই ঠিক। তাগড়া যুবক ভবেনের ভালোবাসার তৃষ্ণা আর মায়ের অনাচার — এই দুই কাহিনি কিন্তু অ্যাকসূত্রে গাঁথা অইয়ে গিইলো, দাদা।’
পুণ্য বললো, শেষ পর্যন্ত করুণ রসই দিলে, বেশ্শোম দা !
বেশ্শোম বললো, ‘গণেশের ছাবাল-মাইয়ে দু’ডো নিয়ে উরগে ঠাউরদা তো কষ্ট এরে নান্দে-বাড়ে, খায়। বাড়ির কাছে বিয়ে দেয়া উরগে ছোটো পিসী মাঝে মাঝে নান্দে-বাড়ে দিয়ে যায়। ছাবাল-মাইয়ে দু’ডো অ্যাহেবারে শেষ অইয়ে গেছে! উগে দিক মোটে তাকানে’ যায় না ! কী যে অবেনে উগে জীবনে ?! মা গ্যালো পরের বউ অইয়ে। ভবেনগে পাড়ার মান্ষির কাছ্তে দুই মাস আগে খবর পায়লাম যে, ভবেনের নতুন বউডার কোলে সুন্দর অ্যাট্টা সোনামণি অয়ছে। ঐ মণিডা হওয়ার মাস খানেকের মদ্ধি গণেশও স্ট্রোকে মরে যায় ! কী বুঝলি তোরা, ক’ ?’
পেল্লাদ বললো, ‘কী আর কবো, কও ? করুণ রসে আমরা নরম কাটে’ গ্যালাম, দাদা! মুখ দিয়ে কথা আর ভারোচ্ ছে না আমাগে ! আমাগে সামনে অ্যাহোন — কষ্টেপোড়া একজন বুড়ো ঠাউরদা, স্কুলি পড়া ছোটো ছোটো দুই ছাবাল-মাইয়ে, শ্রীমান ভবেন, গণেশের পুরোনো বউ অর্থাৎ ভবেনের ঠাকরুন বধূ এবং সোনামণি!’




১ Comment
Pingback: ণই নভেম্বর সংখ্যা ২০২৬