রংপুর-বিল ডাকাতে’র প্যাঁচাল
[খুলনা জেলার রংপুর-বিল ডাকাতে’ অঞ্চলের মৌখিক ভাষা-মিশ্রিত ধারাবাহিক রচনা]
প্যাঁচাল — ১
পঞ্চরাম মণ্ডলের বয়স আর কতো হবে ? ৪০-৪৫ হবে। সে খুলনা জেলার বৃহত্তম বিল ডাকাতে’ অর্থাৎ ‘ডাকাতিয়া’-অঞ্চলের রংপুর গ্রামের বাসিন্দা। লেখা-পড়া হাই স্কুলের গণ্ডি পার হওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলো সে। ৩ টি সন্তান তার। ২ টি ছেলে ১ টি কন্যা। ছেলে ২ টি প্রাইমারি পর্যায়ে পড়ে। কন্যাটির বিয়ে হয়েছে। তার কোলে ১ টি ছেলে। ১ টি মাছের ঘের। তাতে মাছ চাষ করে। ঘেরের ভেড়িতে লাগায় বিচিত্র সব্জি। তবে, বৃষ্টি জলের বন্যায় তা কয়েক মাত্র টে। গরু আছে ৩টি। দুধ বিক্রিও হয় মোটামুটি। বছরে কমপক্ষে ১ টি গরু সে বিক্রি করতে পারে। মোটামুটি তার সংসারের অবস্থা ভালো, বলা যায়।
পঞ্চরাম সমাজসচেতন। সমাজের আগা-পাশতলা সে খবর রাখে। সে রসিকপ্রকৃতির। রসময় ভঙ্গিমায় সে কথা বলতে পারে। প্যাঁচাল পাড়ায় সে নিপুণ। সে দোকানে বসে, হাটের পানবিড়ির দোকানগুলোতে বসে, মন্দিরের বারান্দায় বসে লোজনের সামনে সুযোগ পেলে সে তার ‘প্যাচাল’ পাড়তে শুরু করে। লোকজনও শুনতে চায় পঞ্চরামের প্যাঁচাল। ‘রংপুর-বিল ডাকাতিয়া-অঞ্চল’-এর ১৫-২০ গ্রামের নিরেট আঞ্চলিক ভাষায় উচ্চারিত হয় তার প্যাঁচাল। শুরু হোক্ তাহলে ‘পঞ্চরামের প্যাঁচাল’।
সকাল ৬ টা বাজে। ৭-৮ জন বসে আছে। চা-টা খেয়ে সবাই কাজে বের হবে। কেউ যাবে খুলনা শহরে। মাটির কাজ করতে। কাপড়ের থলেয় দুপুরের খাবার আছে। সাথে কোদালও আছে। কেউ যাবে আড়ংঘাটার মাছের আড়তে। পঞ্চরাম সকালে খেয়ে-দেয়ে পুণ্যর চায়ের দোকানে বসে চা’র অর্ডার দিলো। পুণ্যর দোকান খালের পাশেই। বৈঠা, হাসো ডোঙার ওপরেই আছে। চা খেয়ে ও ডোঙা নিয়ে চলে যাবে বিল ডাকাতের বেশ ভিতরে ঘাস কাটতে। দোকানে বসে দেখলো — দোকানের উত্তর পাশের বেঞ্চিতে বসে চা খাচ্ছে নির্মল, সমেশ, নৃপেন ও রথীন। পঞ্চরামকেও চা দিলো পুণ্য।
পঞ্চরাম বলে উঠলো, ‘কী খবর তুরগে ? গতকাল সন্ধ্যেয় তো তুরগে দেখলাম না ! কাজের খুব চাপ, বোধ হয় !’
নৃপেন বললো, ‘তা এ্ট্টু আছে, পঞ্চরাম দা।’
‘তা, তোমার কী খবর, দাদা ? ম্যালাদিন তো তোমার প্যাচাল তো শোনা অয় না !’ — রথীন কললো। সমেশ বললো, তোমার প্যাঁচাল কিন্তু অ্যাহেবারে রস দিয়ে ভরা।’ নির্মল বললো, ‘খালি রসের কতা কোচ্ছির ক্যান্ ? দাদার প্যাঁচালে তো সমাজের নানান সত্যি ভরা থায়ে।’ নৃপেন বললো, ‘কাজে ভারোনের আগে তোমার অ্যাট্টা প্যাঁচাল শুনে যাই, দাদা। শুরু হোক্, দাদা।’
পঞ্চরাম বললো, ‘শোন্, ঘাস কাটতি যাবো। সমায় বড়ো কোম। আর তুগে আর কী কবো ? তোরা তো কথা শুনিস্ নে। কী অবে আর রস দিয়ে, ক ? তুগে যে বয়েস, ত কোনোপ্রকার উপদেশ তুগে নোচ্পে না নে, তা আমি জানি। দ্যাখ্, এট্টা বিচ্ কথা কই — তুরগে ঝি-তি যা ভালো লাগে, স্বাদ লাগে, তাই চাটে’-পুটে গিলে খাস্। ক’ ঠি কোচ্ছি নে ? ক তোরা।’
রথীন বললো, ‘তবু, দাদা, আমাগে যা বয়েস, তাতে অতো নিয়ম-টিয়ম ঠিক রাহে পারা যায় না !’
‘তুই থাম্ — কথা কোবিনে মোটে ! তুগে এট্টুও হিসেব নেই ! খা, প্যাট্ পুরে খা। খাইয়ে খইিয়ে মর। দিন দিন যে কেরাম মানুষ হচ্ছিস্ তোরা — চিন্তা এত্তি এত্তি মরে গেলাম। ওরে ঝি-তি যা স্বাদ লাগায়, তা কিন্তু খালি মরে যাতি অয় ! আর নেমন্তন্ন পালি তো কথা নেই ! ঝোল টোল সব ভাতের সাথে মাহাইয়ে চ্যাটকাইয়ে চ্যটিকাইয়ে গিলিস্ । তুগে নজ্জাও অ্যারে না !’
সমেশ কী যেন কোতি চাতিলো, পঞ্চরাম বলে উঠলো, ‘থাম্ তুই ! মোটে কেউ কথা কোবি নে ! আমি যা যা কোচ্ছি, তা চোখ-কান্ বুজোয়য়ে খালি শুনে যাবি ! ওরে নতুন কিছু যুবক দেহিছি — খালি মাংস খায়। চুকনগরের আব্বাসের হোটেলে মাসে মাসে তো তারা যাবেই ! খাইয়ে খাইয়ে অচ্ছে কী, জানিস ? উরগে মোটা অচ্ছে শরীর। প্যাট মোটা অচ্ছে। মানে তাগড়া অচ্ছে বডি ! ঐ পাড়ার গণেশের কতো বয়েস অইলো ? ৩৫-৩৬ অবে। গেছে — পেরেসার বাড়ে চিৎপটাং ! শুনিছি পেরেসারের ওষোধ ও খা’তো। কী অলো তায়ালি ? মল্লো ক্যান্ ? ওরে পেরেসারের ওষোধ অ্যাকবার চালু কোল্লি আর নাহি ছাড়ান্ দেয়া যায় না ! নিয়ম এরে টাইমিং এরে খাতি অবে। গণেশের নাহি মাঝে মাঝে মনে থাকতো না, বুইছির তোরা ? তোরা আবার ঐরাম অইয়ে যাস্ নে !’
নির্মল বললো, ‘দাদা, তুমি যা এতোক্ষণ কোলে, তা অ্যাহেবারেই সত্যি। গণেশের ওষোধ খাওয়ায় বেশ অনিয়ম অইয়ে যা’তো। তাই নিয়ে ওর বৌডা তো গভীর চিন্তায় ছিলো ! অ্যাট্টা মাইয়ে নিয়ে ম্যালা টেনশানে ছিলো বউডা !’
‘আর কী অবে ? বউডা বিধবা অইয়ে গ্যালো ! শাহাড়ি-শ্বশুরও নেই ! এবার ্ইরিও নাগাতি পারেনি বউডা ! আর কিষেণ নাগালি ম্যালা খরচ ! অতো টাহা পাবে কোয়ানে বউডা ? বাহের বাড়িত্তে ছোটো ভাই মাঝে মাঝে কিছু সাহায্য অ্যারে। কিন্তু ছোটো ভাইডার আবার তিনডে ছাবাল-মাইয়ে। ওরও কিষেণ দিয়ে খাতি অয়। গ্রামের ধাদ্দে-বাড়্দে এট্টু ইরি-টিরি ওতো। তাওতো আর হয় না অ্যাহোন ! বিঘে খানেক জমি ছিলো গণেশের। ভাগে দিলু কিছু ধান পা’তো। কিন্তু বিল ডাহাতের জল তো আর সরে না ! খেডা আর সরাবে ? ! সব খালি মুহি মুহি’, পঞ্চরাম বড়ো কষ্টে উচ্চারণ করলো কথাগুলো।’
সে আবার বললো,‘তোরা শুনিছির, কী অয়ছে আবার ? প্যাঁচাল অ্যাট্টা বাঁধেছে !’
নৃপেন বললে, ‘ কী অয়ছে, কও দি ক্লিয়ার এরে।’
‘বউডার দিক্ পাড়ার গাদ্দোন যুবক দিলীপির নজর পড়েছে ! বউডা অ্যাহেতে কোম বয়েস, তারপর দিলীপির আবার ফস্টি-নস্টির চাপ ! ঠেলতিও পারে না বউডা। কিন্তু দিলীপিরও বউ আছে। দু’ডো ছাবাল আছে। প্যাঁচাল তোা ঐ যায়গায় ! বুঝিছির তোরা ? দুই বো’র প্যাচাল কিন্তু মাঝে মাঝে বাঁধদেছে । এ প্যাঁচাল যে কনথে কনে গোড়োবেনে, তা খেডা কবে ?’ পঞ্চরাম বললো।
রথীন বললো, ‘ অ্যাট্টা ভালো স্বাদ-লাগা রসায়ন তৈরি অলো কিন্তু, দাদা।’
‘তায়ালি বুঝদি পাত্তোছো তোমরা অ্যাহেবারে কাঁচা রসের প্যাঁচাল উপভোগ করলে ! ও কলা আমার কোতি ছ্যারে না ! নে আর বোস তি পাত্তিছি নো, গরু কয়ডা না খাইয়ে থাকপেনে ! ডোঙা নিয়ে উত্তর বিলি যাত্যাবে। ওঠলাম। তোরা যে যার কাজে যা।
প্যাঁচাল — ২
‘শালার মান্দোলি ভরার প্যাঁচাল পাড়বো অ্যাহোন। তা তোমরা এট্টু কও — ঐ মান্দোলির মদ্দি নাহি অ্যাকখান কী যেন ল্যাহা কাগজ ঢুয়োয় দে ? জানো তোমরা ?’ চা খাতি খাতি বললো পঞ্চরাম।
পবন বললো, ‘শুনিছি গোঁসাই-গোবিন্দরা এই কাজডা করে।’ বিরিঞ্চি বললো, ‘এ তো সত্যি কতা।’
পঞ্চরাম আজও সোয়ালবেলায় গরুর ঘাস কাট্তি যাওয়ার পথে ডোঙাডা থুইয়ে পুণ্যর দোকানে চা খাতি উঠিলো কয় মিনিট আগে।
পঞ্চরাম বললো, ‘পবন, কতাডা কোইছির ঠিক। ‘তাগি’ সুতো দিয়ে বাঁন্ধে গলায় ঝুলোয় নিয়ে বেড়ায়, হে ! ও শালা মাজায়ও বান্ধে অনেকে। সব রোগ সারে যাবেনে — পরকালে অ্যামন অ্যাট্টা ভক্তির ব্যাপার কাজ করে মনের মদ্দি। কতোজন যে এই মান্দোলির পাল্লায় পড়েছে, হে —’
চা খাতি খাতি পঞ্চরাম বললো, আমাগে খোশালের ছাবাল তার পঙ্গু নাতীর দন্নি, কুদি তার মাইয়ের মাইয়ের দন্নি মান্দোলি ভরে’ নিয়ে আয়ছে। শলো’র খগেন, ত্রিমুনির নিশি তার সরো মাইয়েডার মেট্টিক পাশের দন্নি, গোরারডাঙ্গির পেরফুল্লো তার নাটানে সরো বউডার দন্নি মান্দোলি ভরে নিয়ে আয়ছে। প্রতি মান্দোলিতি কতো টাহা ? মাত্র ১,০০০ টাহা।তবে, ৫০০ টাহায়ও মান্দিালি ভরা যায়। আমাগে শ্রীশ্রীছিদেম গোঁসা’র কিন্তু চ্যালাবেলা আছে ম্যালা ! মোটামুটি সিন্ডিকেট করে নয়ছে, হে —’
তপন কতা কোইয়ে ওঠলো, ‘অ্যহেবারে আসল কতা কোলে পঞ্চরাম দা !’
‘অ্যাহেবারে মিরে কতা’, চিত্ত বললো।
পঞ্চরাম হঠাৎ বলে উঠলো, ‘ওরে চ্যালাবেলার দল আছে পেত্তেক পাড়ায়। ওরা বছরে অ্যাকবার ধান, বাঁশ আদাই এরে ব্যাড়ায়। কিন্তু অ্যাহোন সমস্যা অইয়ে গেছে ! বিল ডাহাতে অ্যাহোন জলে ভরা। ধান-টান অয় না ! তাই ধানের আদাই অ্যাহোন বন্দো অইয়ে গেছে ! কিন্তু গোঁসা’র মান্দোলির ব্যাবোসা থামিনি !’
পুণ্য এবার কইয়ে ওঠলো, ‘খাটে’-খুটে সংসার চালতি পারিনে আর গোঁসার চ্যালাবেলাগে দ্যাহোগো প্যাটে চর্বি জম্তেছে। আমাগে নোয়া কা’ তো ভালো পজিশনে অ্যাহোন ! নোয়াকা ধার-কাছে আছে নাহি ?’
‘যাই হোক — বেশ কিছু শিক্ষিত মানুষ খুব মনোযোগী অইয়ে এ-সব কাছে আছে। কী আর করো, কও ? যার যা মনে বলে, সে তাই করে। কিন্তু কতা কী জানো ? — এ-সব তো মানষির শরীর-মন ভালো অ্যারার দন্নি। কিন্তু তোমরা সবাই কও — সমাজের ছ্যাচ্ড়ামি, পাগলামি কি কোম্তেছে ? মানুষ কিন্তু যে ’সাদে, সেই সাদে’ — এ-সব প্যাঁচাল আর পাড়তি ছ্যারে না ! আবার না কোয়েও পারিনে ! কিন্তু আমাগে গোঁসা’র কিন্তু লাভ অচ্ছে। সব চাইতে আসল কতা অচ্ছে — গোঁসা’র চ্যালাবেলাগে সংসার অ্যাহোন ভালো চল্তেছে। খুব সুহি আছে ওরা। গোঁসাই বাবা কি জয় !
প্যাঁচাল — ৩
পেরবাসীর বাড়ির নিকটে পথের পাশে চয়নকে পেয়ে থামিয়ে দিলো হরবিলাস। সাইকেল থেকে নামলো চয়ন। প্রাইভেট পড়ে বাড়ি যাচ্ছিলো সে। সময় সকাল সোওয়া ৮ টার মতো।
হরবিলাস সরাসরি চয়নকে বললো, ‘আচ্ছা, তুই অ্যাতো ‘কাজা’স্ ক্যান্, ক’দি ? পাড়ার মানুষ তো ঝালা-পালা তোর দন্যি ! আমিও তোর কাজানে’ শুনে পাটাইয়ে গেলাম ! তুরগে বাড়ির পুবির পাশে রবীনগে বাড়ি যাইয়ে বোঝেলাম তোর কাজানের মাত্রা কতো ! আর তোর অ্যাতো রাগ ক্যান্ ?’
চয়ন বললো, ‘মোবাইল কিনে দেচ্ছে না ক্যান্ ? আমাগে পাড়ায় কার মোবাইল নেই, কও দি, কাগা ?’
হরবিলাস বললো, ‘ও সেই দায় তোর পড়তি ছ্যারে না ? কিন্তু দল বান্ধে প্রাইভেট পড়তি তো যাস্। সাইকেল চালাস্ উড়ে উড়ে। তুগে সাথে ছেমড়িরাও তো ঢক্ মারে সাইকেল চালায়।’
‘তা চালায়’, চয়ন বললো।
‘আচ্ছা, তুই অ্যাহোন্ বাড়ি যা, ভাইপো।’
পুণ্যর দোকানে যাচ্ছিলো হরবিলাস। চয়নকে বিদায় দিয়ে পেরবাসীর বাড়ির উঁচু বারান্দার বসে পড়ে অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের মোবাইল-চর্চা-সম্পর্কে গভীর চিন্তায় মগ্ন হলো।
হরবিলাস তো জানে’ গেছে যে, মোবাইলি যে কতো ধরণের সুখ আছে ! মোবাইল টিপে টিপে নাইন-টেনের ছ্যামড়া-ছেমড়িরা সব মহানন্দ পায়। ছ্যামড়ারা তো ম্যালা রহোম গেম্স, নাচ-গান, টিকটক্ দেহে সব নাটাইয়ে যাচ্ছে ! চয়ন পরশু দিন তো হরবিলাসরে কোইলো — মোবাইল ওরে কিনে দিতিই অবে। ওর মা-রে ও কোইয়ে দেছে — দু’ডো গরুর অ্যাট্টা ব্যাচো। টাস্ মোবাইল কিনে দাও আমারে।
এসব ভাবছিলো হরবিলাস। ২-৪ মিনিট পরে পশ্চিম দিক থেকে পেরবাসী এলো। হরবিলাসকে দেখে ও বললো, কী অ্যাত্তোছো ঞ্যানে ?’
হরবিলাস বললো, ‘ওরে তুই আর কোসনে ! চয়ন অ্যাহোন টাস মোবাইল কিনতি চাচ্ছে।’
পেরবাসী বললো, ‘তাই নাহি ?’
হরবিলাস বললো, ‘ওর সাধ-আহ্লাদ দ্যাহো ! শালা তুই খাবি কী, তার খোঁজ নেই আবার টাচ মোবাইল !! হরবিলাসের চিন্তা — দিন দিন অচ্ছে ডা কী ?! শালা — এই ধরনের ছাবালরা এইরাম অইয়ে গেছে ! খাওয়া-ঘোম দরকার নেই, ঐ মোবাইল টেপাই আসল কাজ। আমার শালা মোটে সহ্য অয় না ! গা মোটে জ্বলতি লাগে ! কী যে অচ্ছে সমাজে ! এর সাথে আবার মোটর সাইকেল কেনার কতাও আছে। রংপুর-বিল ডাকাতে’ অঞ্চলে দু’ডো ছাবাল মোটর সাইকেল চালাতি যাইয়ে অ্যাহেবারে শেষ ! মাথায় হেলমোট তো পরে না কেউ ! ছাবাল দু’ডোর মাথার ঘিলু মোটে ভারোয় গিইলো। কারে কবো এ-সব কতা, কও ? আমার মোটে সহ্য অয় না ! ক্লাস এইট-নাইনি পড়া ঝুৎ-পাল যদি এইরাম আখালে মরে ! ভালো ঠ্যায়ে, কও ? আমি মোটে চুপ মারে গিছি ! এসব দেহে আমার কতা বোন্দো অইয়ে গেছে ! অ্যাতো প্যাঁচাল আর ভালো ঠ্যায়ে না !
পেরবাসী বললো, ‘সত্যি, দাদা, সমাজডা পচে গেছে ! খেডা কার কথা শোনে !!’
বুনডি, আমি উঠ্তিছি যাই। গরুর জন্যি দু’ড্ েঘাস কাটে’ নিয়ে আসি গে। পেরবাসী, তুই যাসকেনি আমাগে বাড়ি।
