বেঈমান
উড়ে যাওয়া হাওয়ার আঁচল টেনে পেতে রেখেছি। কখন উঠবে বেঈমান চাঁদ। আলো আলো রাতে একা ঘুমাতে ইচ্ছে করে না। ইতস্ততা ছড়িয়ে খুঁজে ফিরি দেবতার মুখ।
কেমন হয় দেখতে তাকে। উচ্চতায় উচ্চারণে কথার রোয়াকে ফুটে থাকে কি না বেগুনি জারুল। হাসিমুখ তার ভুলিয়ে দিতে জানে নিশ্চয় সারাদিনের খিদে তেষ্টা। গনগনে রোদের আগুন নিভে এলে দিনমজুরের কাঁধে শুয়ে পড়ে অভাবের সংসার।
আমার আমাদের কোনো সংসারের স্বপ্ন দেখা হয়নি। অনন্তে মিশে যাবার সংকল্প সঞ্চারিত হতে পারে ভেবে আগেভাগে সতর্ক থেকেছি। বেনোজলে ভেঁসে আসা চাঁদের গায়ে লাথি মেরে চিৎকার করে বলতে শিখেছি বেঈমান…!
চৈত্রবৃষ্টি
বাজি ধরতে পারি অভাব। সন্তানের চিরদুঃখি মুখ। আল কেটে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া জমির অনুর্বর মাটি। ঝরে পড়া নিম ফুলের পাশে শুয়ে থাকা নিজেকে। ব্লাউজের সবচেয়ে উপরের বোতাম ছিঁড়ে যাবার লজ্জা। প্রেমিককে শ্বাসরোধ করে চুমু খাবার আনন্দ। পিতার মৃত্যুকালে আওড়ানো অছিয়তনামা।
তখন কেউ একজন এসে বুঝিয়ে বলবে নিশ্চয়। দেশ দরিদ্র হলে বিষ খেয়ে মরে যেতে হয় একসাথে সবাইকে নিয়ে। আমার ঘরেও ফিরে আসতে পারে আপন মানুষ। চিবুকের কাছে লেগে থাকবে তার শিক্ষিত আঙুল। উৎসবের রঙ কারো কারো জন্য সবসময় সাদাকালো। বিশ্বাস হোক বা না হোক। চৈত্রের বৃষ্টির প্রতিটি দানা আলাদা স্মারকলিপি পেশ করে পাতার কাছে।
মৃত্যু ঘুম
এমন জড়ায়ে ধরেন বুকে, যেনো এই একটু আগে মরে যাওয়া প্রেমিকা আমি আপনার। ঘরের বাইরে জানে না কেউ খবর মৃত্যুর।
এখনো গরম হাত পায়ের তালু। নিশ্বাসের গন্ধ শুঁকে ঠিক মরা বলে হচ্ছে না মনে। ফলে শেষ চুমু খেতে মুখের কাছে উপুড় হতে গিয়ে। প্রথম চুমুর মতো বন্ধ হয়ে আসছে চোখ আপনার। ভাবছেন লজ্জায় মরে যদি যাই। পরে কি দিয়ে তুলবেন একা বাঁচিয়ে। যৌথ চুমুর মতো তো নয় একলার এসব চুমু। খুব গোলমেলে ধাঁধার মতো বোকা বানিয়ে দেয়।
জড়ায়ে ধরেন আমারে আবার। অপার সুরের সঙ্গে গেয়ে গেয়ে গান। ঘুমায়ে দেন আপনার বুকের ভেতর। হতে পারে সে ঘুম ভাঙলো না আর। পুনরায় ঘুমায়ে দেবার ঝক্কি হলো না পোহাতে পুনর্বার।
লয়
জলপাই কুড়ানো দুপুরে দেখেছি। স্নানের সাথে কিভাবে মিলিয়ে যায় গরীব বউদের সম্ভ্রম।
হট্টিটি পাখির চোখ বেঁধে কুমিরের খামারে ছেড়ে দেয়া হলো। বাচ্চা বাচ্চা কুমিরগুলো খেলতে খেলতে পাখিদের পাখনায় নতুন গজানো দাঁত বসিয়ে হাসতে লাগলো ঝংকার তুলে। মায়া-মমতার সুশিক্ষা পায়নি পরিবার থেকে তাই কোনো দোষ ওদের দিতে পারিনি।
আমারও চোখ বেঁধে হাতে হাতকড়া পরিয়ে যখন ছেড়ে দেয়া হবে পশুর জলসায়। যার যেভাবে ইচ্ছে কামড়ে ঠুকরে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে সাবাড় করে দেয় যেনো অল্প সময়ের মধ্যে। ধীরলয়ে শুধু প্রেমিকের আদর ভালো লাগে মৃত্যু নয়।
চলো পার হয়ে যাই
পৃথিবী পার হয়ে যাই চলো।
এই দ্রাঘিমাংশ অস্বীকার করে নতুন মিছিলে সংবদ্ধ হবে মানুষ। সমতলে পাহাড়ে একই গান বাজবে।
রাষ্ট্রকে লেলিয়ে দেবো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। আমরা তো হয়েছিলাম দেশের। দেশ আমাদের হয়নি কখনো। বৃত্তের ভেতরে বাইরে প্রোপাগাণ্ডার শিকার যে কেউ হতে পারে। তুমি বলো এড়িয়ে যাওয়া পার হয়ে যাওয়া এক কথা তো নয়। দেখছি না পরস্পরের ক্ষুব্ধ বিকেল। কারো কান্না কেউ পারছি না শুনতে। কেবলই এড়িয়ে যাওয়া। সে-তো পার হয়ে যাওয়া নয়।
