শেষকৃত্য
গাছের উদ্বিগ্ন পাতারা জানে
পতনের অপেক্ষায় থেকে কীভাবে
ঝলসে যায় শরীরবৃত্তীয় অস্তিত্ব
মেঘদল নই, ভেসে যাবো!
অন্তহীন আফসোসের দারোয়ান
ফুরসত নেই, অবসরের অপেক্ষায়
কেটে যায় ক্ষণকাল
দু প্যাগ সম্ভাবনাও সাবাড় করে অন্য কেউ
কুণ্ঠিত নই, অবধারিত জেনে
ঠেলে দিচ্ছি পতনের মুখে
বেশিকিছু জানি না, শুধু এতটুকু জানি,
তুমি তাকিয়ে আছো আমার শেষকৃত্যের পানে
সৌরভ
মনের ইতস্তত ঘুরে বেড়ায়
ঘোরের পার্কিংয়ে
আদ্যাক্ষর তোলে সংযুক্তির আলাপ
প্রলুব্ধ সংস্করণে আসন্ন হতাশা
বিষণ্ণ আঙ্গিকে তুলে ধরো, কে?
কে তুমি? অচেনা বন্ধনে দিয়েছো
শিকলের খেয়াল
মায়ের উনুনে জ্বলছে মায়ার অঞ্জলি
উঠানে দাদার মিলাদের শিরনি, মোলায়েম
বিশ্বাসে ধূসর, পাণ্ডুর
সূর্যের নিঃশেষ রক্তিম মেখে
পত্রপল্লব নেয় উষ্ণ সোহাগ
যদিবা ঘুম, নিরাধার অঙ্গিকার
সানন্দে ছড়ায় পুষ্পের সৌরভ
মেলোডি
কী উচ্ছ্বল, কী প্রাণবন্ত
তোমাদের প্রেম, প্রেম প্রেম সংসার
এতকাল ছিলে পথ না চেনা পরিব্রাজক
তোমাকে ক্লান্তি ছুঁয়ে যেতো, ছুঁয়ে যেতো হতাশা
ছিলে প্রত্যাশার আঘাতে জর্জরিত যুবতী
আয়নার সামনে দাঁড়াতে ভাঙা বিবর্ণ দ্বিধায়
সমুদ্রের আন্তরিক অভিবাদন আলতো
ছুঁয়ে গেলো তোমাদের যুগল অস্তিত্ব
চোখে নেই ধূসর আবছায়া; মুখের অবয়বে
প্রাপ্তির স্মারক; আতিফ আসলামের অন্তরঙ্গ সুর,
ইনস্ট্রুমেন্টের মৃদু বাঁক অলৌকিক বাতাবরণে দুলে দুলে ছুটে চলছে
আক্ষেপের জোর নেই
তবুও দূরতম কেউ KK-এর মূর্ছনায়
নিজেকে করে তুলছে আরও একা
সম্ভাব্য খুনীর নোট
আলস্যের প্রাচুর্যসমেত
দীর্ঘ মাস কাটাব চিৎ হয়ে
গাঞ্জার ওপর
রোলিংয়ের ঘোর তন্দ্রায়
নিতান্ত অপ্রয়োজনে
বত্রিশ পাটি বের করে
অপ্রস্তুত হাসিতে
কিছুই না পড়ে অথবা বহুকিছু
পড়ে; স্বাক্ষরের অভিপ্রায়ে
ছুটে চলবে পা
থামাবো না তাকে
থামাতে জানি না বলে
নির্ঘুম বহুরাত কেটে যাবে
ফাঁপা পেটে, জয়েন্ট হাতে
সঙ্গীহীন সুষম সঙ্গে
সৌষ্ঠব সময়ের হাতে
আহত অধীর পড়ে নেবে
আত্মহত্যা বিষয়ক সাময়িকী
অন্তত একবার সময়-সুযোগ
পেলে খুবলে খাব নিজেকে
