চক্রবর্তী
দক্ষ নাবিকের মত সাঁতার জানলে সময় সমুদ্র হয়ে যায়
তিমি মাছের শরীরে টাল খাওয়া চাঁদ, মেঘের মেয়েরা শরীর সাজায়,উলুসখী পরিবৃত
দীর্ঘ সাংসারিকের মত কৃশ হয়ে আসে কাঁধের উপাঙ্গ
পথ দুটি, তবু থিতু হওয়া চোখের দরাজ ভ্রুয়ের ঝোঁপে চৌরিচৌরা খানিক,
আত্মপক্ষ জানেনা পলক ফেলতে ফেলতে ক্রুন্দনের মেয়ে শিবির সাজায়, রাত হয়ে আসে,
মুক্তোফুলের গয়নায় ভীষণ উজ্জ্বল ছবিটির দুর থেকে চাঁদ রঙের মজলিশ বসে,
গানের কলি, আগাপাশতলা লক্ষীদেবীর পা ধুলে সন্ধ্যারা খুলে পড়ে,
তখন শব্দহীন জল জল জল, চক্রবর্তী হয় নিষেধাজ্ঞার নিবন্ধে।
কেকা
কিভাবে শুনবে ময়ূরের পেখমরত কান্না দলাপাকানো কাঁদাজল রান্না,
ছাইভস্মের মোলায়েম ধরে ফেলে পা, আস্তে আস্তে, শরীর বুঝবে সুখ কি,
শান্তি কোথায়। দেখেছি গরুরা আস্তাবলে নিরাপদ নয়,
মাঝে মাঝে হেডলাইট জ্বলবে, নামতা পড়বে করে গলা সরু,
গগার গরু,কথিত ঠিক না, খুন্তি আস্তে না হলে বলা যাবেনা রান্না,
ভেষজ গন্ধের মতো সন্ধ্যা নামে, অদুরে চাঁদ রাত দেখায়,
এই ঘোর অন্ধকারে হাত থাকেনা,মাংস চেবোনোর দাঁত থাকেনা।
যা থাকে তা খুব অশ্লীল ও অনুচ্চারণযোগ্য,হচ্ছো কৌতুহলী,
বলা যাবে না।ডাক পাড়ব কেকা, টেরাকোটা বিলে ডাহুকের হিংস্র নখ ক্ষয় হয়,
পথ চলতে থাকে,ফাঁদগুলো মর্মরবেত ও চিলধ্বজ কৌশলে ন্যাড়া মাথায় কান্না করে।
আসবোনা বলতে বলতে খসা পালক থেকে মাদুরের ছাঁচ বুনে গেছে ময়ূর।
ছাইগুলো হাওয়ায় এধার ওধার , শরীর খুঁজছে পরবর্তী প্রজন্মের।
শরৎবাবুর কলম
কার নামের পাশে?কার আঁচল হেটে যায়, হামাগুড়ি যত্রতত্র ,মেয়েবুদ্ধির তোর্ষা খুলে যায়।
শালুক ফোটে,ডানা মেলে ওরা রাজহাস, ভীষণ দরাজ, ভীষণ দৈব,ভয় করে,আনন্দপাই।
আমার কোন কুয়াশা ছিল না,ছিল এক শতমূলী দিঘী, কালবৈশাখী মেঘের মত বিষাদ,
শ্যামাঙ্গিণী আলতা পায়ে হেঁটে আসে হাত বুলোয় হরিয়ালী চুলে।প্রেম করিস?
নিন্দুকেরা বলে।প্রাক শরত ভোর আসে,
গীতবিতান ঝুলিয়ে পাখিরা হলুদ বাড়ির ছাদে নিঃশব্দে দানা খুঁটে খায়,
একবুক ভালবাসা রেখে যায়। শরৎবাবু রোজ ফেরেন সদুপুরের নাশতায়
তার মন পারো নামের মেয়েটাকে পাওয়ার উদ্দেশ্যে হু হু করে।
শরৎবাবু কলম খুঁজতে উঠে পড়েন তড়িঘড়ি।
কাঁপতে থাকে
তিথি পেরিয়ে শূন্য কিনে খায়, অবুঝের জানালায়
ক্যাতকেতে শ্লেষ
স্খখলের রিক্তমণি,গোহারার অন্তঃপুরে চুমু চেয়ে
স্নানের ক্ষত উপড়ে নাও, নামাও নৌকা ও ভিনরুপী কালিন
কাদামাটি লাগা সূর্যের পৃষ্ঠায় দৃশ্য ছটামহী।
তড়িদাহত মাছ শ্রেণীকৌশল পেরিয়ে নিভে আসে শ্বাসখোলার কাছে
জীবন ময়াল ও কামবিরোধী পুরুষ,
স্বতন্ত্র সে জীবনের উবে যাওয়া দেখে ধৈর্য্য ধরে
হাত পুড়ে যায় থেমে থাকা নিঃশ্বাসে,বিশ্বাসে।
ছায়া
ভূমিগন্ধার ছোবল থেকে উৎসে জ্বালাও কি
ও কি ধবলিত কবল, মুছে রাখা নষ্টর প্রকৃতি
তেমন তো কথা নেই,পাপড়ির জলে স্বচ্ছ শিকার দৌড়
হরিণ লো,প্রাণবন্ধু মোর,ডাহুকির সংসারে
রাশ কোথায় তোর! খাবি কি
ভুলিসনি তমসা,মায়া, কস্তুরগন্ধের পাশে উর্ধ্বশ্বাস দৌড়
তেমনি উপচে ওঠারাও,কপালের বিন্দু বিন্দু ভয়ার্ত ,
এখন ফেরি করে নালিঘাস,তপ্ত শুকনো রেখে
মৌনে মৌনে মিথুন রাশির ছায়া ।



